সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্টার কার্যালয়ে নানা রকম অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের সন্ধান মিলেছে। নিয়ম নীতি থাকলেও জেলা রেজিস্টার অফিসের কর্মকর্তা বিভিন্ন ইউনিয়ন/পৌরসভায় দায়িত্বে থাকা কাজীদের নানা অনিয়ম ও অপকর্মকে প্রশ্রয় দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়।
জানা যায়, গুটিকয়েক দায়িত্বরত অসাধু কাজী কিছু কিছু বিয়ের ক্ষেত্রে অভিনব কায়দায় অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘন করে আসছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন মন্ত্রণালয় প্রদত্ত জেলা রেজিস্টার কার্যালয়ের মাধ্যমে বিবাহ নিবন্ধনের ফর্ম বা বই পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব থাকলেও তা সঠিকভাবে পালন করছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, কিছু কিছু অসাধু কাজী বাল্যবিবাহ নিবন্ধন করে থাকেন। যা বাল্যবিবাহ আইন- ২০১৭ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন প্রণয়ন করা থাকলেও অভিনব পদ্ধতিতে বয়সের স্থানে সালের ক্ষেত্রে (২০০) লেখেন কিন্তু শেষে সংখ্যাটি অথবা স্থানটি ফাকা রেখে বিবাহ নিবন্ধন কার্য সম্পন্ন করেন।
এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী চাকরি প্রত্যাশীদের চাকরি পাওয়ার পুর্বেই প্রয়োজন সাপেক্ষে বিবাহের ক্ষেত্রে বর-কনে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলেও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অসাধু কাজীরা বিবাহ নিবন্ধন তারিখের স্থানটি ফাকা রেখে বিবাহ নিবন্ধন সম্পন্ন করেন।
জেলা রেজিস্টার অফিস সূত্রে জানা যায়, বিবাহ নিবন্ধকের বই বা ফর্মগুলোকে ৬ মাস পর পর পর্যবেক্ষণ (অডিট) করা হয়। যা করে থাকেন জেলা রেজিস্টার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও জেলা রেজিস্টার।
অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, একাধিক বিবাহ নিবন্ধন বইয়ে বাল্যবিবাহ, বর-কনের বয়স উল্লেখ না থাকা, বিবাহ নিবন্ধনের তারিখ ফাকা রাখাসহ বিভিন্ন আইন লঙ্গিত কর্মকাণ্ড থাকার পরেও অর্থের বিনিময়ে জেলা রেজিস্টারের মোহর ও স্বাক্ষর দিয়ে একাধিক বাল্যবিবাহ ও আইন বহির্ভূত বিয়েগুলোর বৈধতা দেন।
তাছাড়া জানা যায়, কিছু কিছু ইউনিয়ন অথবা ওয়ার্ডে কাজীদের পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে ভারপ্রাপ্ত কাজীর দায়িত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ প্রদান করেন।
জেলা রেজিস্টার কার্যালয়ের অফিস সহকারী- কাম – কম্পিউটার অপারেটর মোঃ রাকিব ভূঁইয়া বলেন, বিবাহ নিবন্ধন বইগুলো অডিটের ক্ষেত্রে সময় সল্পতা থাকায় পুরো বই পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়না। দেখা যায়- একটি বইয়ের ৪ থেকে ৫ পাতা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এই পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব জেলা রেজিস্ট্রারের থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সময় সংক্ষেপের কারণে আমরাও দেখে থাকি।
তিনি আরও বলেন, বিবাহ নিবন্ধনের বই পর্যবেক্ষণের পরেও যদি বাল্যবিবাহ, বিবাহ নিবন্ধন তারিখ ফাকা, বয়স উল্লেখ না থাকা অথবা ভুয়া তারিখ উল্লেখ থাকলে সেটি আমাদের দায়িত্ব অবহেলার মধ্যে গন্য হবে।