আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার স্বচ্ছতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চায়।

তিনি বলেন, এই পথ অনুসরণ করেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।

আজ শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনজীবীদের স্বার্থ যেমন দেখতে হয়, তেমনি বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হয়।’

একই সঙ্গে বিচার বিভাগের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করা মন্ত্রণালয়ের নৈতিক দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী তার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিচার বিভাগকে নিজস্ব গতিতে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বিচারকদেরও স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করি, সেই প্রতিষ্ঠানকে যদি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রদর্শন না করি, তবে তা এক সময় ধ্বংসের পথে চলে যায়।’

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী হোসাইনের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব শেখ আশফাকুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

ইফতার অনুষ্ঠান শেষে আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকে মিলিত হন।


সরকার নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করছে : অর্থমন্ত্রী

ছবি : বাসস
চট্টগ্রাম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি সরকারের একটি বড় কর্মসূচি হলো কর্মসংস্থান গড়ে তোলা। সরকার নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে কাজ করছে। আগামী বাজেটেও কর্মসংস্থান প্রাধান্য পাবে।

বিনিয়োগ যদি না হয় তাহলে দেশে কর্মসংস্থান হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজন্য আমরা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে জোর দিচ্ছি। আমাদের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এটা করার জন্য যা যা করার দরকার সেটা করা হবে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গার মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন এলাকায় সরকারি হাসপাতালের জন্য জমি পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নেও সরকার কাজ করছে। আমরা শিক্ষার পরিবর্তন ঘটাবো। আর স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তনের বিষয়ে নির্বাচনের আগে জাতির কাছে বিএনপি ওয়াদা করেছিল, সেটি পূরণ করা হবে।

বন্দরনগরী সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, বন্দরনগরীর মেরিন ড্রাইভে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। এখানে নার্সিং ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে। সেইসাথে টেকনোলজিস্টদের জন্য আরেকটি ইনস্টিটিউট করা হবে। এখানে বাংলাদেশের ঘাটতি রয়েছে। এজন্য আমাদের একটি বড় জায়গা দরকার। কয়েকটি জায়গা আমরা দেখছি। তার মধ্যে মেরিন ড্রাইভের এই জায়গাটি একটি। কিন্তু কিছু জায়গায় কিছু সমস্যা থাকে। আমরা সবকিছু বিবেচনা করে ভালোটা নেব।

তিনি বলেন, এটি হবে জেনারেল হাসপাতাল, তবে সেখানে বিশেষায়িত কয়েকটি ইউনিট থাকবে। মানুষ আরও সহজে ভালো স্বাস্থ্য সেবা পাবে। আমি চট্টগ্রাম-১১ আসনে ১১ দফা ইশতেহার দিয়েছি যা ১১ তে ১১ নামে পরিচিত। সেগুলো ইনশাল্লাহ করব আমি।

এরআগে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা থানাধীন জেলে পাড়া এলাকায় প্রস্তাবিত সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যে নির্ধারিত জমি পরিদর্শন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে মন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকার সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করেন।

বানৌজা উল্কার আবাদ অঞ্চল-২ এর পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন মুসলিমাবাদ এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধিগ্রহণকৃত জমিতে হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।

শুক্রবার অর্থমন্ত্রী নৌবাহিনীর অধিগ্রহণকৃত মোট ১৪ দশমিক ২১৯০ একর এবং অতিরিক্ত ২ দশমিক ৭ একর জমি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জমির ভৌগোলিক অবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আশপাশের অবকাঠামোগত সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

পরিদর্শনকালে কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান মন্ত্রীকে বিস্তারিত ব্রিফিং দেন। এছাড়া অধিনায়ক বানৌজা উল্কা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সিডিএর প্রতিনিধিরা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রস্তাবিত হাসপাতালটি বাস্তবায়িত হলে পতেঙ্গা, জেলে পাড়া ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগরীর চিকিৎসা অবকাঠামো আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এরপর অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দর স্টেডিয়াম মাঠে নিজের নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম-১১ আসনের বন্দর ও পতেঙ্গা থানা বিএনপি আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।