বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশে সব ধরনের জ্বালানির স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে মো. শওকতুল ইসলাম-এর জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকার সম্ভাব্য সব উৎস অনুসন্ধান করছে এবং পর্যাপ্ত মজুত রেখে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। জ্বালানির দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি জানান, মূল্য সমন্বয়ের জন্য একটি নির্ধারিত পদ্ধতি রয়েছে এবং প্রতি মাসে পরিস্থিতি বিবেচনায় তা নির্ধারণ করা হয়। প্রয়োজনে চলতি মাসে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে হরমুজ প্রণালি-তে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।

মজুদের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ডিজেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন এবং এপ্রিলের মধ্যে আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন আসবে। অকটেনের মজুত ১০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন এবং আরও ৭১ হাজার ৫৪৩ মেট্রিক টন সরবরাহ হবে। পেট্রলের মজুত রয়েছে ১৬ হাজার মেট্রিক টন, যা এপ্রিলের মধ্যে আরও ৩৬ হাজার মেট্রিক টন বাড়বে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি সরবরাহে চাপের মুখে রয়েছে। ইতোমধ্যে পাকিস্তান জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে, শ্রীলঙ্কা রেশনিং চালু করেছে এবং ভারতসহ অন্যান্য দেশেও দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশে এখনো জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্প ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার এপ্রিল মাসে দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। একই সঙ্গে কৃষকদের কাছে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনকে কৃষক কার্ড বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অবৈধ মজুত রোধে জেলা প্রশাসনকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জেলা পর্যায়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দেশীয় সম্পদের ব্যবহার বাড়াতে গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত কনডেনসেট ব্যবহার করে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, গত ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত অবৈধ মজুত প্রতিরোধে ৩৪২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা দায়ের এবং ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।