মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানে আলোচক দল পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পর এই ঘোষণা আসে।
ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, আলোচনায় অংশগ্রহণের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই বলে জানিয়েছে তেহরান। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও “অযৌক্তিক দাবির” কারণে এই মুহূর্তে ফলপ্রসূ আলোচনার পরিবেশ নেই।
এদিকে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে জানা গেছে। রোববার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি ইরানি জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটি আটক করে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান সতর্ক করে জানায়, তারা এর জবাব দেবে এবং মার্কিন সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন মোতায়েনের কথাও জানানো হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা বিদ্যমান। ২৮ ফেব্রুয়ারির পর শুরু হওয়া সংঘাত সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে থামলেও পরিস্থিতি এখন আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এর আগে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদ-এ মাত্র এক দফা ২১ ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনায় ইরানের ইউরেনিয়াম মজুতসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলবে। তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের ইউরেনিয়াম মজুত স্থানান্তর বা হস্তান্তরের কোনো পরিকল্পনা নেই।
আলোচনার সম্ভাবনা ঘিরে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সড়কে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার পথ খোলা থাকলেও আস্থা ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে অগ্রগতি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।