মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন অনির্ভরযোগ্য সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
তবে এই তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র দ্বারা নিশ্চিত হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে এক্সপার্টস অ্যাসেম্বলি, যা বংশানুক্রমিকভাবে উত্তরাধিকারসূত্রে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা নয়।
গুজব অনুযায়ী মোজতবা খামেনি নাকি বর্তমানে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত ভূমিকা রাখছেন। তবে তাকে এখনো প্রকাশ্যে দেখা যায়নি এবং কোনো ছবি বা ভিডিওও নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি।
একই সঙ্গে বলা হচ্ছে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা আলোচনার প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন। গালিবাফের সঙ্গে দেশটির শক্তিশালী সামরিক সংগঠন ইসলামিক রেভ্যলুশনারি গার্ড কর্পস-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
আইআরজিসি ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি শক্তি হিসেবে পরিচিত। তবে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে “প্যারালাল সরকার” বলা বা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে—এমন দাবিরও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মতো সংবেদনশীল রাজনৈতিক বিষয়ে যাচাই ছাড়া তথ্য প্রচার বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তাই এসব খবর নিশ্চিত সূত্র ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়।