হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পেতে রাখা মাইন পুরোপুরি পরিষ্কার করতে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে দীর্ঘ সময় ধরে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল সীমিত করে রেখেছে। এতে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যায় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়।

শান্তিকালে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। যুদ্ধবিরতির পরও প্রণালীটি মূলত বন্ধই রয়েছে, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও নিজস্ব নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ হলেও এবং অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও প্রণালী থেকে মাইন অপসারণে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে এ ধরনের অভিযান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম।

গোপনীয় এক ব্রিফিংয়ে প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির সদস্যদের এই ছয় মাসের সম্ভাব্য সময়সীমা জানানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়, ইরান প্রণালী ও এর আশপাশে অন্তত ২০টি মাইন স্থাপন করে থাকতে পারে। এর কিছু জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূর থেকে ভাসমান অবস্থায় নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, ফলে সেগুলো শনাক্ত করা আরও কঠিন।

তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে এ প্রতিবেদন অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী ছয় মাস বন্ধ থাকার বিষয়টি অসম্ভব এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’

পারনেল আরও বলেন, ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনটি ‘গোপন ও রুদ্ধদ্বার ব্রিফিং’-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলেও এর অনেক তথ্যই ‘ভুল’।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড ইতোমধ্যে ১ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে ‘বিপজ্জনক অঞ্চল’ ঘোষণা করেছে, যেখানে মাইন থাকার আশঙ্কা রয়েছে। আয়তনে এটি প্যারিস শহরের প্রায় ১৪ গুণ।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বহাল থাকলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলবে না।

জার্মান পরিবহন প্রতিষ্ঠান হাপাগ লয়ডের এক মুখপাত্র গত সপ্তাহে বলেন, মাইন আতঙ্কে জাহাজ মালিকরা এখনো বিকল্প নিরাপদ রুটের বিস্তারিত জানতে চাইছেন।

এ মাসের শুরুতে যুদ্ধবিরতির সময় স্বল্প সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হলেও হামলা ও মাইনের আশঙ্কায় খুব অল্পসংখ্যক জাহাজ সেখানে চলাচল করে।

এর আগে এপ্রিল মাসে মার্কিন নৌবাহিনী দাবি করেছিল, তাদের জাহাজ মাইন অপসারণ শুরু করতে প্রণালী অতিক্রম করেছে। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড এ দাবি অস্বীকার করে এবং সামরিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেয়।

যুদ্ধ শেষে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে বহুজাতিক একটি মিশনের পরিকল্পনা নিয়ে বুধবার লন্ডনে ৩০টির বেশি দেশের সামরিক পরিকল্পনাবিদদের বৈঠক শুরু হয়েছে।

‘প্রতিরক্ষামূলক’ এ জোট প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং মাইন অপসারণ কার্যক্রমের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবে।