ঢাজা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ বছরের দেবরকে নিয়ে উধাও ভাবী


কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামে যৌতুকের অটোরিকশা ও টাকা নিয়ে স্বামীর লাপাত্তা হয়ে যাওয়ার জেরে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে তিন বছরের দেবরকে নিয়ে গৃহবধূর পলায়নের এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত নারীর নাম রিনা খাতুন (৩২)। তিনি জোতমোড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং গোপালগঞ্জের মকসুদপুর থানার গয়লাকান্দি এলাকার মৃত কাসেম মোল্লার মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও প্রতারণার বহু অভিযোগ রয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে তিনি নিজ এলাকায় একটি অটোরিকশা চুরি করে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানকে রেখে পালিয়ে যান। এরপর থেকে তার আর খোঁজ মেলেনি।

প্রায় ১৫ দিন আগে নিজেকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে রিনা খাতুন আনোয়ারের বাড়িতে ওঠেন। তিনি জানান, ৬ মাস আগে তাদের বিয়ে হয় এবং যৌতুক হিসেবে একটি অটোরিকশা ও নগদ টাকা দেওয়া হয়। তিন মাস আগে স্বামী আনোয়ার ওই অটোরিকশা ও টাকা নিয়ে পালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিনা। এরপর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়িতে প্রায়ই টাকা দাবিতে উত্তেজিত আচরণ করতেন।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বাড়ির সবাই ব্যস্ত থাকাকালে রিনা হঠাৎই আনোয়ারের ৩ বছর বয়সী ছোট ভাইকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যান এবং আর ফেরেননি। তার মোবাইল ফোন মাঝে মাঝে খোলা পাওয়া গেলেও শিশুর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য মিলছে না।

শিশুটির মা আনোরা খাতুন ছেলেকে না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন,
“১৫ দিন ধরে ওই মহিলা গাড়ি আর টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল। বারবার হুমকি দিত ক্ষতি করার। রাতে রান্নায় ব্যস্ত ছিলাম, এ সুযোগে আমার গ্যাদা বাচ্চা নিয়ে পালাইছে। যত টাকাই লাগুক, তোমরা আমার ছোয়ালটারে এনে দাও।”

শিশুর দাদা জিন্নাহ শেখ রাত ১০টার দিকে কুমারখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার দাবি, রিনা বিভিন্ন সময় ফোনে আনোয়ারের সঙ্গে কথা বলেন এবং টাকা ও গাড়ি ফেরত দিলে শিশুকে ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন।

কুমারখালী থানার ওসি খন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন,
“তিন বছরের এক শিশুকে নিয়ে পালিয়েছে এক নারী। আমরা অভিযোগ পেয়েছি। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।”

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশুটি এখনও নিখোঁজ থাকায় পরিবার ও এলাকাবাসী গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জে যোগ দিলেন লিটন ও মিরাজ : প্রিমিয়ার লিগে

৩ বছরের দেবরকে নিয়ে উধাও ভাবী

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০১:৫৬:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫


কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামে যৌতুকের অটোরিকশা ও টাকা নিয়ে স্বামীর লাপাত্তা হয়ে যাওয়ার জেরে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে তিন বছরের দেবরকে নিয়ে গৃহবধূর পলায়নের এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত নারীর নাম রিনা খাতুন (৩২)। তিনি জোতমোড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং গোপালগঞ্জের মকসুদপুর থানার গয়লাকান্দি এলাকার মৃত কাসেম মোল্লার মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও প্রতারণার বহু অভিযোগ রয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে তিনি নিজ এলাকায় একটি অটোরিকশা চুরি করে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানকে রেখে পালিয়ে যান। এরপর থেকে তার আর খোঁজ মেলেনি।

প্রায় ১৫ দিন আগে নিজেকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে রিনা খাতুন আনোয়ারের বাড়িতে ওঠেন। তিনি জানান, ৬ মাস আগে তাদের বিয়ে হয় এবং যৌতুক হিসেবে একটি অটোরিকশা ও নগদ টাকা দেওয়া হয়। তিন মাস আগে স্বামী আনোয়ার ওই অটোরিকশা ও টাকা নিয়ে পালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিনা। এরপর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়িতে প্রায়ই টাকা দাবিতে উত্তেজিত আচরণ করতেন।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বাড়ির সবাই ব্যস্ত থাকাকালে রিনা হঠাৎই আনোয়ারের ৩ বছর বয়সী ছোট ভাইকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যান এবং আর ফেরেননি। তার মোবাইল ফোন মাঝে মাঝে খোলা পাওয়া গেলেও শিশুর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য মিলছে না।

শিশুটির মা আনোরা খাতুন ছেলেকে না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন,
“১৫ দিন ধরে ওই মহিলা গাড়ি আর টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল। বারবার হুমকি দিত ক্ষতি করার। রাতে রান্নায় ব্যস্ত ছিলাম, এ সুযোগে আমার গ্যাদা বাচ্চা নিয়ে পালাইছে। যত টাকাই লাগুক, তোমরা আমার ছোয়ালটারে এনে দাও।”

শিশুর দাদা জিন্নাহ শেখ রাত ১০টার দিকে কুমারখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার দাবি, রিনা বিভিন্ন সময় ফোনে আনোয়ারের সঙ্গে কথা বলেন এবং টাকা ও গাড়ি ফেরত দিলে শিশুকে ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন।

কুমারখালী থানার ওসি খন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন,
“তিন বছরের এক শিশুকে নিয়ে পালিয়েছে এক নারী। আমরা অভিযোগ পেয়েছি। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।”

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশুটি এখনও নিখোঁজ থাকায় পরিবার ও এলাকাবাসী গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।