ঢাজা ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় ভারতে আটককৃতদের বিষয়ে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

  • অনলাইন ডেস্ক.
  • সপ্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৪৩:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • ৫ শেয়ার

আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছি। আমরা বিষয়টিতে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাব।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, কলকাতা পুলিশ সম্প্রতি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদেরকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তিনি বলেন, কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি-হাইকমিশন ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়া গেলে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।

শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দী-বিনিময় চুক্তি রয়েছে এবং সন্দেহভাজনরা অপরাধে জড়িত বলে নিশ্চিত হওয়া গেলে সরকার এ প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

তিনি বলেন, সন্দেহভাজনরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে শনাক্ত হলে আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় অথবা অন্য কোনো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করব।

তাদের ফেরত আনার সময়সীমা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি বর্তমানে অন্য একটি দেশের আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে এবং ঢাকাকে এ বিষয়ে পরবর্তী অগ্রগতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছি। আশা করি ভারত এ বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করবে।

ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কলকাতায় বাংলাদেশের মিশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চাওয়া হয়েছে। তবে এখনো কলকাতা বা নয়াদিল্লির সাড়া মেলেনি।

তিনি বলেন, কনস্যুলার অ্যাক্সেস পেলে আমাদের কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া অনুসারে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তাদের পরিচয় ও তথ্য যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ডিজেল সরবরাহ, পানি বণ্টন এবং সীমান্তে হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগসহ বেশ কিছু বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলমান রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সরকার গঠনের পর ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দুই দেশের মধ্যে ভালো কূটনীতি বজায় রাখতে কার্যক্রমে প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হওয়া চাই।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডসহ পূর্ববর্তী শাসনামলে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইনি ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীসহ অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় ভারতে আটককৃতদের বিষয়ে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৪৩:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছি। আমরা বিষয়টিতে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাব।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, কলকাতা পুলিশ সম্প্রতি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদেরকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তিনি বলেন, কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি-হাইকমিশন ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়া গেলে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।

শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দী-বিনিময় চুক্তি রয়েছে এবং সন্দেহভাজনরা অপরাধে জড়িত বলে নিশ্চিত হওয়া গেলে সরকার এ প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

তিনি বলেন, সন্দেহভাজনরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে শনাক্ত হলে আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় অথবা অন্য কোনো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করব।

তাদের ফেরত আনার সময়সীমা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি বর্তমানে অন্য একটি দেশের আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে এবং ঢাকাকে এ বিষয়ে পরবর্তী অগ্রগতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছি। আশা করি ভারত এ বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করবে।

ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কলকাতায় বাংলাদেশের মিশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চাওয়া হয়েছে। তবে এখনো কলকাতা বা নয়াদিল্লির সাড়া মেলেনি।

তিনি বলেন, কনস্যুলার অ্যাক্সেস পেলে আমাদের কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া অনুসারে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তাদের পরিচয় ও তথ্য যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ডিজেল সরবরাহ, পানি বণ্টন এবং সীমান্তে হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগসহ বেশ কিছু বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলমান রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সরকার গঠনের পর ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দুই দেশের মধ্যে ভালো কূটনীতি বজায় রাখতে কার্যক্রমে প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হওয়া চাই।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডসহ পূর্ববর্তী শাসনামলে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইনি ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীসহ অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।