ঢাজা ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে নতুন সরকার : তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৭ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার দেশে ফেরার দিনই মানুষের বাধ ভাঙা উচ্ছ্বাস প্রমাণ করেছে তারেক রহমানের মাধ্যমেই স্বপ্ন দেখা ও স্বপ্ন পুরণ করতে চায় দেশের মানুষ। এর ফলে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি পেয়েছে ভূমিধ্বস বিজয়। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর এবার জনতার স্বপ্ন পূরণ যাত্রার শুরু হয়েছে বিএনপি সরকারের হাত ধরে। যেন স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশের সূচনা। অন্যরকম এক বাংলাদেশকে দেখছে বাংলাদেশের মানুষ। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চমকপ্রদ সব পদক্ষেপে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে নতুন এক দিগন্তের পথে।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। জনতার প্রত্যাশা ও স্বপ্নকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার যাত্রা। এই যাত্রার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার নেতৃত্বে গঠিত সরকার। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারের নানা সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ ইতোমধ্যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

নতুন সরকারের শুরু থেকেই ক্ষমতার চর্চায় ভিন্নধর্মী বার্তা দেখা যাচ্ছে। অতীতে প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় বিশাল গাড়ি বহর, দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ রাখা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির ঘটনা ছিল নিয়মিত দৃশ্য। তবে এবার ভিন্ন এক চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষের মতোই ট্রাফিক আইন মেনে চলাচল করছেন এবং নিজেকে জনগণের কাতারের একজন হিসেবে তুলে ধরছেন। যা অনেকের কাছে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের সিদ্ধান্তও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার বলছে, সংসদে ভারসাম্য রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ক্ষেত্রেও নতুন বার্তা এসেছে। নির্বাচনে বিজয়ের পরপরই পরাজিত রাজনৈতিক শক্তির নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুধু তাই নয়, বিরোধী দলের আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার বেশ কয়েকটি উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প, যা সরকার গঠনের তিন মাসের মধ্যেই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০টি খাল খনন এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের মহাপরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল থেকে হওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতিতেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সে বার্তাই বহন করে বলে বিশ্লেষকদের মত।

রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের ক্ষেত্রেও মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশাসনে পদায়নের কথা বলা হচ্ছে। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা যোগ্য কর্মকর্তাদেরও প্রশাসনে রাখা হয়েছে,  ধারাবাহিকতা ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

এছাড়া প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও ব্যয়সংকোচনেও জোর দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হয়ে অধীনস্থদের উপস্থিতি নিশ্চিত করছেন। রমজানে ব্যয়বহুল ইফতার আয়োজন পরিহার, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর কমানো এবং বিলাসবহুল সরকারি গাড়ি কেনা বন্ধের মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

সরল জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগতভাবে উদাহরণ স্থাপন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বড় গাড়ি বহর ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কমানো, পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা পরিহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার মাধ্যমে তিনি জনগণকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সব মিলিয়ে নতুন সরকারের এসব পদক্ষেপকে অনেকেই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে নতুন সরকার : তারেক রহমান

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০৯:২২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ ১৭ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার দেশে ফেরার দিনই মানুষের বাধ ভাঙা উচ্ছ্বাস প্রমাণ করেছে তারেক রহমানের মাধ্যমেই স্বপ্ন দেখা ও স্বপ্ন পুরণ করতে চায় দেশের মানুষ। এর ফলে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি পেয়েছে ভূমিধ্বস বিজয়। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর এবার জনতার স্বপ্ন পূরণ যাত্রার শুরু হয়েছে বিএনপি সরকারের হাত ধরে। যেন স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশের সূচনা। অন্যরকম এক বাংলাদেশকে দেখছে বাংলাদেশের মানুষ। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চমকপ্রদ সব পদক্ষেপে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে নতুন এক দিগন্তের পথে।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। জনতার প্রত্যাশা ও স্বপ্নকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার যাত্রা। এই যাত্রার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার নেতৃত্বে গঠিত সরকার। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারের নানা সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ ইতোমধ্যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

নতুন সরকারের শুরু থেকেই ক্ষমতার চর্চায় ভিন্নধর্মী বার্তা দেখা যাচ্ছে। অতীতে প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় বিশাল গাড়ি বহর, দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ রাখা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির ঘটনা ছিল নিয়মিত দৃশ্য। তবে এবার ভিন্ন এক চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষের মতোই ট্রাফিক আইন মেনে চলাচল করছেন এবং নিজেকে জনগণের কাতারের একজন হিসেবে তুলে ধরছেন। যা অনেকের কাছে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের সিদ্ধান্তও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার বলছে, সংসদে ভারসাম্য রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ক্ষেত্রেও নতুন বার্তা এসেছে। নির্বাচনে বিজয়ের পরপরই পরাজিত রাজনৈতিক শক্তির নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুধু তাই নয়, বিরোধী দলের আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার বেশ কয়েকটি উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প, যা সরকার গঠনের তিন মাসের মধ্যেই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০টি খাল খনন এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের মহাপরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল থেকে হওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতিতেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সে বার্তাই বহন করে বলে বিশ্লেষকদের মত।

রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের ক্ষেত্রেও মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশাসনে পদায়নের কথা বলা হচ্ছে। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা যোগ্য কর্মকর্তাদেরও প্রশাসনে রাখা হয়েছে,  ধারাবাহিকতা ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

এছাড়া প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও ব্যয়সংকোচনেও জোর দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হয়ে অধীনস্থদের উপস্থিতি নিশ্চিত করছেন। রমজানে ব্যয়বহুল ইফতার আয়োজন পরিহার, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর কমানো এবং বিলাসবহুল সরকারি গাড়ি কেনা বন্ধের মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

সরল জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগতভাবে উদাহরণ স্থাপন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বড় গাড়ি বহর ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কমানো, পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা পরিহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার মাধ্যমে তিনি জনগণকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সব মিলিয়ে নতুন সরকারের এসব পদক্ষেপকে অনেকেই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।