ঢাজা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাটারা-হেমায়েতপুর মেট্রোরেল: ২০৩০ সালের মধ্যে চালুর আশা

রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ ভাটারা এলাকা থেকে শহরতলির হেমায়েতপুর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেট্রোরেল সংযোগ সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্পটি ‘মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লাইন-৫’ এর আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, নতুন এ রুটের উন্নয়ন কাজ ১০টি প্যাকেজে বিভক্ত। প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের একটি অংশ ভূগর্ভস্থ এবং অপর অংশ উঁচু পথে নির্মাণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, হেমায়েতপুর ডিপোর ভূমি উন্নয়ন কাজ দ্রুত এগোচ্ছে এবং ইতোমধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০৩০ সালের মধ্যে রুটটি চালু করা সম্ভব হবে। এদিকে মূল ট্র্যাক ও স্টেশন নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ‘নর্দার্ন রুট’ নামে পরিচিত এই লাইনটি হবে ঢাকার প্রথম পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোরেল সংযোগ। এতে মোট ১৪টি স্টেশন থাকবে, যার মধ্যে ৯টি হবে ভূগর্ভস্থ। প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভাটারা থেকে সাভারের হেমায়েতপুর পর্যন্ত যাত্রা সময় কমে দাঁড়াবে মাত্র ৩২ মিনিট, যেখানে বর্তমানে যানজটের কারণে এ পথ পাড়ি দিতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

প্রতিটি বৈদ্যুতিক মেট্রো ট্রেন একসঙ্গে ৩ হাজার ৮৮ জন যাত্রী বহন করতে পারবে। প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিকে প্রায় ৫৩ হাজার ২০০ যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে। মোট ২০ কিলোমিটার রুটের মধ্যে প্রায় ১৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার হবে ভূগর্ভস্থ।

ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলো নির্মিত হবে গাবতলী, দারুস সালাম, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪, কচুখেত, বনানী, গুলশান-২ ও নতুনবাজার এলাকায়। অপরদিকে উঁচু পথে নির্মিত স্টেশনগুলো হবে হেমায়েতপুর, বালিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারায়।

কর্মকর্তারা জানান, হেমায়েতপুর ডিপোর মৌলিক নকশা প্রণয়ন ও জমি অধিগ্রহণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ২৯ হাজার ১১৭ কোটি টাকা সহায়তা হিসেবে দেবে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা জাইকা এবং বাকি ১২ হাজার ১২১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বহন করবে সরকার।

প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, নির্মাণকাজ ও যন্ত্রপাতির মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।

তিনি আরও জানান, উঁচু পথে নির্মিত অংশে শব্দ ও কম্পন কমাতে বিশেষ ধরনের জোড়াবিহীন রেললাইন ব্যবহার করা হবে এবং উভয় পাশে শব্দনিয়ন্ত্রণ দেয়াল নির্মাণ করা হবে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু, আহত ৯ জন

ভাটারা-হেমায়েতপুর মেট্রোরেল: ২০৩০ সালের মধ্যে চালুর আশা

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩২:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ ভাটারা এলাকা থেকে শহরতলির হেমায়েতপুর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেট্রোরেল সংযোগ সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্পটি ‘মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লাইন-৫’ এর আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, নতুন এ রুটের উন্নয়ন কাজ ১০টি প্যাকেজে বিভক্ত। প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের একটি অংশ ভূগর্ভস্থ এবং অপর অংশ উঁচু পথে নির্মাণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, হেমায়েতপুর ডিপোর ভূমি উন্নয়ন কাজ দ্রুত এগোচ্ছে এবং ইতোমধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০৩০ সালের মধ্যে রুটটি চালু করা সম্ভব হবে। এদিকে মূল ট্র্যাক ও স্টেশন নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ‘নর্দার্ন রুট’ নামে পরিচিত এই লাইনটি হবে ঢাকার প্রথম পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোরেল সংযোগ। এতে মোট ১৪টি স্টেশন থাকবে, যার মধ্যে ৯টি হবে ভূগর্ভস্থ। প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভাটারা থেকে সাভারের হেমায়েতপুর পর্যন্ত যাত্রা সময় কমে দাঁড়াবে মাত্র ৩২ মিনিট, যেখানে বর্তমানে যানজটের কারণে এ পথ পাড়ি দিতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

প্রতিটি বৈদ্যুতিক মেট্রো ট্রেন একসঙ্গে ৩ হাজার ৮৮ জন যাত্রী বহন করতে পারবে। প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিকে প্রায় ৫৩ হাজার ২০০ যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে। মোট ২০ কিলোমিটার রুটের মধ্যে প্রায় ১৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার হবে ভূগর্ভস্থ।

ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলো নির্মিত হবে গাবতলী, দারুস সালাম, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪, কচুখেত, বনানী, গুলশান-২ ও নতুনবাজার এলাকায়। অপরদিকে উঁচু পথে নির্মিত স্টেশনগুলো হবে হেমায়েতপুর, বালিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারায়।

কর্মকর্তারা জানান, হেমায়েতপুর ডিপোর মৌলিক নকশা প্রণয়ন ও জমি অধিগ্রহণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ২৯ হাজার ১১৭ কোটি টাকা সহায়তা হিসেবে দেবে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা জাইকা এবং বাকি ১২ হাজার ১২১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বহন করবে সরকার।

প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, নির্মাণকাজ ও যন্ত্রপাতির মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।

তিনি আরও জানান, উঁচু পথে নির্মিত অংশে শব্দ ও কম্পন কমাতে বিশেষ ধরনের জোড়াবিহীন রেললাইন ব্যবহার করা হবে এবং উভয় পাশে শব্দনিয়ন্ত্রণ দেয়াল নির্মাণ করা হবে।