ঢাজা ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া বহিরাগত সন্ত্রাসীর কোপেই মারা গেছে স্কুলছাত্র তাসিফ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • সপ্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৭:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • ৪৬৩ শেয়ার

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সময় নৌকার প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে বিপুলসংখ্যক বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া করেছিলেন সাতকানিয়ার একজন শীর্ষ জনপ্রতিনিধি। ওই সন্ত্রাসীদের একাধিক দলে ভাগ করে বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রার্থীদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সন্ত্রাসী অবস্থান নিয়েছিল ওই জনপ্রতিনিধির গ্রামের বাড়িতে। বহিরাগত ওই সন্ত্রাসীদের কোপেই মারা গেছে স্কুলছাত্র তাসিফ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাসিফ হত্যা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ড শেষে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব বলে আশা করছি। ’

সাতকানিয়া থানার ওসি আবদুল জলিল কালের কণ্ঠকে বলেন, শিশু তাসিফ হত্যা মামলাটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক দুলাল হোসেন। তদন্ত পর্যায়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শাহরিয়ার সাদেক নিলয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ফেনী জেলার ফুলগাজী থানার বিজয়পুর গ্রামের আবু সাদেকের ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানার নন্দনকানন এলাকায় বসবাস করেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাহরিয়ার বখাটে সন্ত্রাসী। গ্রেপ্তারের পর পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছেন তিনি। ওই তথ্যের সূত্র ধরে আরো কয়েকজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

শাহরিয়ারের উদ্ধৃতি দিয়ে একজন পুলিশ কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে সাতকানিয়ায় গিয়েছিলেন। তাঁকে ২০০ লোক নিয়ে নির্বাচনের দুই দিন আগে সাতকানিয়া যেতে নির্দেশ দেন সাতকানিয়ার একজন শীর্ষ জনপ্রতিনিধি। ওই জনপ্রতিনিধির পরিকল্পনা ছিল, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে নির্বাচন কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করা। যেসব এলাকায় নৌকার বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর অবস্থান ভালো, সেখানে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে।

শাহরিয়ার নিজে একা চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে সাতকানিয়ায় নিয়ে যান দেড় শতাধিক বহিরাগত সন্ত্রাসী। তাদের সঙ্গে দেশি অস্ত্র ছিল। শাহরিয়ারসহ ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল নলুয়া ইউনিয়নের দায়িত্ব পায়।

নির্বাচনের দিন প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজি করা সন্ত্রাসীরা চিহ্নিত হয়েছে। তবে ঘটনার পাঁচ দিন পরও তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গত বুধবার গণমাধ্যমে সন্ত্রাসীদের পরিচয় প্রকাশের পর অস্ত্রধারীরা এলাকা ছাড়ে। চিহ্নিত এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা না গেলেও খাগরিয়া থেকে অন্য একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাতকানিয়া থানার ওসি আবদুল জলিল কালের কণ্ঠকে বলেন, খাগরিয়ায় অস্ত্রবাজির ঘটনায় করা মামলায় ওসমান আলী (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নতুন চরখাগরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু, আহত ৯ জন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া বহিরাগত সন্ত্রাসীর কোপেই মারা গেছে স্কুলছাত্র তাসিফ

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৭:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২২

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সময় নৌকার প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে বিপুলসংখ্যক বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া করেছিলেন সাতকানিয়ার একজন শীর্ষ জনপ্রতিনিধি। ওই সন্ত্রাসীদের একাধিক দলে ভাগ করে বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রার্থীদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সন্ত্রাসী অবস্থান নিয়েছিল ওই জনপ্রতিনিধির গ্রামের বাড়িতে। বহিরাগত ওই সন্ত্রাসীদের কোপেই মারা গেছে স্কুলছাত্র তাসিফ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাসিফ হত্যা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ড শেষে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব বলে আশা করছি। ’

সাতকানিয়া থানার ওসি আবদুল জলিল কালের কণ্ঠকে বলেন, শিশু তাসিফ হত্যা মামলাটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক দুলাল হোসেন। তদন্ত পর্যায়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শাহরিয়ার সাদেক নিলয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ফেনী জেলার ফুলগাজী থানার বিজয়পুর গ্রামের আবু সাদেকের ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানার নন্দনকানন এলাকায় বসবাস করেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাহরিয়ার বখাটে সন্ত্রাসী। গ্রেপ্তারের পর পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছেন তিনি। ওই তথ্যের সূত্র ধরে আরো কয়েকজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

শাহরিয়ারের উদ্ধৃতি দিয়ে একজন পুলিশ কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে সাতকানিয়ায় গিয়েছিলেন। তাঁকে ২০০ লোক নিয়ে নির্বাচনের দুই দিন আগে সাতকানিয়া যেতে নির্দেশ দেন সাতকানিয়ার একজন শীর্ষ জনপ্রতিনিধি। ওই জনপ্রতিনিধির পরিকল্পনা ছিল, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে নির্বাচন কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করা। যেসব এলাকায় নৌকার বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর অবস্থান ভালো, সেখানে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে।

শাহরিয়ার নিজে একা চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে সাতকানিয়ায় নিয়ে যান দেড় শতাধিক বহিরাগত সন্ত্রাসী। তাদের সঙ্গে দেশি অস্ত্র ছিল। শাহরিয়ারসহ ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল নলুয়া ইউনিয়নের দায়িত্ব পায়।

নির্বাচনের দিন প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজি করা সন্ত্রাসীরা চিহ্নিত হয়েছে। তবে ঘটনার পাঁচ দিন পরও তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গত বুধবার গণমাধ্যমে সন্ত্রাসীদের পরিচয় প্রকাশের পর অস্ত্রধারীরা এলাকা ছাড়ে। চিহ্নিত এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা না গেলেও খাগরিয়া থেকে অন্য একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাতকানিয়া থানার ওসি আবদুল জলিল কালের কণ্ঠকে বলেন, খাগরিয়ায় অস্ত্রবাজির ঘটনায় করা মামলায় ওসমান আলী (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নতুন চরখাগরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।