ঢাজা ১০:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্দরে ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রতিবাদে ট্রেইলার–কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির ধর্মঘট চলমান, আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত

চট্টগ্রাম বন্দরে ট্যারিফ বৃদ্ধি ও নতুন গেজেট প্রকাশের প্রতিবাদে ট্রেইলার, কাভার্ডভ্যান ও প্রাইম মুভার মালিক সমিতির ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে দেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্রবন্দরে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

গত ১৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিচালক কর্তৃক স্বাক্ষরিত নতুন গেজেট প্রকাশের পর থেকেই বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

নতুন গেজেট অনুযায়ী বন্দরে প্রবেশের জন্য এখন থেকে—

  • অস্থায়ী গেটপাসের ফি ভ্যাটসহ ১১৫ টাকা, যা আগে ছিল ২০ টাকা।

  • ভারী যানবাহনের প্রবেশ ফি ভ্যাটসহ ২৩০ টাকা, যা আগে ছিল ৫৭.৫০ টাকা।

  • হালকা যানবাহনের ফি ভ্যাটসহ ১৩৮ টাকা, যা আগে ছিল ২০ টাকা।

  • মোটরসাইকেল প্রবেশের ফি ভ্যাটসহ ১১৫ টাকা, যা আগে ছিল ২০ টাকা।

  • এছাড়া স্থায়ী গেটপাসের ফি ভ্যাটসহ ১,৩২২.৫০ টাকা, যা পূর্বে ছিল ৩৪৫ টাকা।

এই হঠাৎ ফি বৃদ্ধিতে বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের হাজার হাজার সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, নতুন এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

গত তিন দিন ধরে পণ্য খালাসের উদ্দেশ্যে হালকা যানবাহন বন্দরে প্রবেশ করলেও কোনো ট্রেইলার, কাভার্ডভ্যান, প্রাইম মুভার বা লরি বন্দরে প্রবেশ করছে না। এতে বন্দরে কনটেইনার জট সৃষ্টি হয়েছে এবং আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

এমনিতেই সরকারের নতুন গেজেট অনুযায়ী কনটেইনার চার্জ ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাস করতে না পারায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং অতিরিক্ত ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এতে বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নতুন গেজেট প্রত্যাহারের দাবিতে চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম কাস্টমস এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন, ট্রেইলার–কাভার্ডভ্যান–প্রাইম মুভার মালিক সমিতিসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের লক্ষাধিক সদস্য সভা ও সমাবেশ করছেন।

আজ সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম কাস্টমস এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কাজী খায়রুল বাশার মিল্টন, এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। সভায় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম বন্দর বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা মণ্ডলী ও বিপুলসংখ্যক সদস্য।

সভায় বক্তারা বলেন, “জাতীয় স্বার্থে অযৌক্তিক ট্যারিফ বৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহার করে পূর্বের হার বহাল রাখতে হবে।”

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনির হোসেন আগামীকাল রবিবার বন্দর ব্যবহারকারী সকল সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানা গেছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পণ্য খালাসের উদ্দেশ্যে কোনো ট্রেইলার, কাভার্ডভ্যান বা প্রাইম মুভার বন্দরে প্রবেশ করেনি

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরীক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী মিলন

বন্দরে ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রতিবাদে ট্রেইলার–কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির ধর্মঘট চলমান, আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত

সপ্রকাশিত হয়েছে: ১১:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রাম বন্দরে ট্যারিফ বৃদ্ধি ও নতুন গেজেট প্রকাশের প্রতিবাদে ট্রেইলার, কাভার্ডভ্যান ও প্রাইম মুভার মালিক সমিতির ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে দেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্রবন্দরে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

গত ১৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিচালক কর্তৃক স্বাক্ষরিত নতুন গেজেট প্রকাশের পর থেকেই বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

নতুন গেজেট অনুযায়ী বন্দরে প্রবেশের জন্য এখন থেকে—

  • অস্থায়ী গেটপাসের ফি ভ্যাটসহ ১১৫ টাকা, যা আগে ছিল ২০ টাকা।

  • ভারী যানবাহনের প্রবেশ ফি ভ্যাটসহ ২৩০ টাকা, যা আগে ছিল ৫৭.৫০ টাকা।

  • হালকা যানবাহনের ফি ভ্যাটসহ ১৩৮ টাকা, যা আগে ছিল ২০ টাকা।

  • মোটরসাইকেল প্রবেশের ফি ভ্যাটসহ ১১৫ টাকা, যা আগে ছিল ২০ টাকা।

  • এছাড়া স্থায়ী গেটপাসের ফি ভ্যাটসহ ১,৩২২.৫০ টাকা, যা পূর্বে ছিল ৩৪৫ টাকা।

এই হঠাৎ ফি বৃদ্ধিতে বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের হাজার হাজার সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, নতুন এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

গত তিন দিন ধরে পণ্য খালাসের উদ্দেশ্যে হালকা যানবাহন বন্দরে প্রবেশ করলেও কোনো ট্রেইলার, কাভার্ডভ্যান, প্রাইম মুভার বা লরি বন্দরে প্রবেশ করছে না। এতে বন্দরে কনটেইনার জট সৃষ্টি হয়েছে এবং আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

এমনিতেই সরকারের নতুন গেজেট অনুযায়ী কনটেইনার চার্জ ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাস করতে না পারায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং অতিরিক্ত ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এতে বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নতুন গেজেট প্রত্যাহারের দাবিতে চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম কাস্টমস এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন, ট্রেইলার–কাভার্ডভ্যান–প্রাইম মুভার মালিক সমিতিসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের লক্ষাধিক সদস্য সভা ও সমাবেশ করছেন।

আজ সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম কাস্টমস এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কাজী খায়রুল বাশার মিল্টন, এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। সভায় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম বন্দর বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা মণ্ডলী ও বিপুলসংখ্যক সদস্য।

সভায় বক্তারা বলেন, “জাতীয় স্বার্থে অযৌক্তিক ট্যারিফ বৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহার করে পূর্বের হার বহাল রাখতে হবে।”

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনির হোসেন আগামীকাল রবিবার বন্দর ব্যবহারকারী সকল সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানা গেছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পণ্য খালাসের উদ্দেশ্যে কোনো ট্রেইলার, কাভার্ডভ্যান বা প্রাইম মুভার বন্দরে প্রবেশ করেনি