ঢাজা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সার্ভেয়ার মান্নানের ছত্রছায়ায় কর্ণফুলি গ্যাস অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

কন্ট্রাক্টর শহীদ ও মোস্তফার বিরুদ্ধে নগদ টাকা নেয়ার প্রমাণ চট্টগ্রামের কর্ণফুলি গ্যাস অফিসে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ ও ফাইল বাণিজ্য চলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন গ্যাস অফিসের সার্ভেয়ার মান্নান এবং তার সহযোগী কন্ট্রাক্টর শহীদ ও মোস্তফা।

অভিযোগ রয়েছে, গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কথা বলে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি সংবাদকর্মীদের সামনেই নগদ ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের ঘটনা ঘটেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্যাসের লাইন দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ফাইল বাবদ মোট ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা নগদ গ্রহণ করেন কন্ট্রাক্টর শহীদ ও মোস্তফা, বাকি ৩০ হাজার টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে দিতে বলা হয়। তবে পুরো টাকা পরিশোধের পরেও গ্যাস সংযোগ পাওয়া যাবে কি না—সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেননি অভিযুক্তরা। ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ নভেম্বর দুপুরে, চট্টগ্রামের ছোটপোল কর্ণফুলি গ্যাস অফিসের পাশের পোনাক রেস্টুরেন্টে।

ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান,
২০২১ সালে কর্ণফুলি গ্যাস অফিসের সার্ভেয়ার মান্নান তার কাছে ২৮টি গ্যাস সংযোগের পারমিশনের কথা বলে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে মান্নানের সহযোগী কন্ট্রাক্টর শহীদকে আরও ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সর্বশেষ ১৭ ডিসেম্বর পোনাক রেস্টুরেন্টে আরও ২০ হাজার টাকা নগদ নেওয়া হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন,
“সার্ভেয়ার মান্নান ও কন্ট্রাক্টর শহীদ মিলে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। কর্ণফুলি গ্যাস অফিসে বসেই এসব অপকর্ম চালানো হয়েছে। আমি আমার টাকা ফেরত চাই, নতুবা আমার গ্যাস সংযোগ দেওয়া হোক।”

দীর্ঘদিন ধরে একটি অনুসন্ধান টিম কর্ণফুলি গ্যাস অফিসের ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। তদন্তের অংশ হিসেবে টিমের সদস্যরা গ্রাহক সেজে কন্ট্রাক্টর শহীদের সঙ্গে ফাইল সংক্রান্ত আলোচনা করেন। একপর্যায়ে শহীদ সার্ভেয়ার মান্নানের নাম উল্লেখ করে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ সময় অনুসন্ধান টিমের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নগদ গ্রহণ করেন তিনি।

ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে জানতে কন্ট্রাক্টর শহীদ ও মোস্তফার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কর্ণফুলি গ্যাস অফিসের পরিচালক মো. সালাউদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বারবার কল কেটে দেন।

থামছে না ফাইল বাণিজ্য
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলি গ্যাস অফিসে দীর্ঘদিন ধরেই ফাইল ও ঘুষ বাণিজ্য চলমান রয়েছে। গ্যাস সংযোগের নামে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু, আহত ৯ জন

সার্ভেয়ার মান্নানের ছত্রছায়ায় কর্ণফুলি গ্যাস অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

কন্ট্রাক্টর শহীদ ও মোস্তফার বিরুদ্ধে নগদ টাকা নেয়ার প্রমাণ চট্টগ্রামের কর্ণফুলি গ্যাস অফিসে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ ও ফাইল বাণিজ্য চলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন গ্যাস অফিসের সার্ভেয়ার মান্নান এবং তার সহযোগী কন্ট্রাক্টর শহীদ ও মোস্তফা।

অভিযোগ রয়েছে, গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কথা বলে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি সংবাদকর্মীদের সামনেই নগদ ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের ঘটনা ঘটেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্যাসের লাইন দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ফাইল বাবদ মোট ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা নগদ গ্রহণ করেন কন্ট্রাক্টর শহীদ ও মোস্তফা, বাকি ৩০ হাজার টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে দিতে বলা হয়। তবে পুরো টাকা পরিশোধের পরেও গ্যাস সংযোগ পাওয়া যাবে কি না—সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেননি অভিযুক্তরা। ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ নভেম্বর দুপুরে, চট্টগ্রামের ছোটপোল কর্ণফুলি গ্যাস অফিসের পাশের পোনাক রেস্টুরেন্টে।

ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান,
২০২১ সালে কর্ণফুলি গ্যাস অফিসের সার্ভেয়ার মান্নান তার কাছে ২৮টি গ্যাস সংযোগের পারমিশনের কথা বলে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে মান্নানের সহযোগী কন্ট্রাক্টর শহীদকে আরও ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সর্বশেষ ১৭ ডিসেম্বর পোনাক রেস্টুরেন্টে আরও ২০ হাজার টাকা নগদ নেওয়া হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন,
“সার্ভেয়ার মান্নান ও কন্ট্রাক্টর শহীদ মিলে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। কর্ণফুলি গ্যাস অফিসে বসেই এসব অপকর্ম চালানো হয়েছে। আমি আমার টাকা ফেরত চাই, নতুবা আমার গ্যাস সংযোগ দেওয়া হোক।”

দীর্ঘদিন ধরে একটি অনুসন্ধান টিম কর্ণফুলি গ্যাস অফিসের ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। তদন্তের অংশ হিসেবে টিমের সদস্যরা গ্রাহক সেজে কন্ট্রাক্টর শহীদের সঙ্গে ফাইল সংক্রান্ত আলোচনা করেন। একপর্যায়ে শহীদ সার্ভেয়ার মান্নানের নাম উল্লেখ করে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ সময় অনুসন্ধান টিমের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নগদ গ্রহণ করেন তিনি।

ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে জানতে কন্ট্রাক্টর শহীদ ও মোস্তফার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কর্ণফুলি গ্যাস অফিসের পরিচালক মো. সালাউদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বারবার কল কেটে দেন।

থামছে না ফাইল বাণিজ্য
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলি গ্যাস অফিসে দীর্ঘদিন ধরেই ফাইল ও ঘুষ বাণিজ্য চলমান রয়েছে। গ্যাস সংযোগের নামে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।