
দেশের চলমান জ্বালানি তেলের অস্থিরতা নিরসনসহ জাতীয় সংকট মোকাবিলায় একটি যৌথ কমিটি গঠনের পাশাপাশি আলোচনার মধ্যদিয়ে সমাধানের পথ বের করার প্রস্তাব দিয়েছে বিরোধী দল। এই প্রস্তাবের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিরোধী দলের প্রস্তাবে বাস্তবতার নিরিখে কোনো কিছু থাকলে তা গ্রহণ করা হবে। বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের প্রস্তাবের জবাবে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, এই সংসদে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল, একটি জায়গায় উপনীত হয়েছি যে, আমাদের আর যা কিছুর ব্যাপারে মতপার্থক্য থাকুক না কেন, দেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে আমাদের কোন মতপার্থক্য নেই।
তারেক রহমান বলেন, সকল সময় আমার দলের পক্ষ থেকে আমি বলতে পারি, দেশ এবং দেশের মানুষের কোন বিষয় যদি আমাদের সামনে কেউ উপস্থাপন করেন, যদি আমাদের কাছে দেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থের ব্যাপারে কেউ কোন প্রস্তাবনা দেন, আলোচনা করতে চান, পরামর্শ দেন, সুপারিশ দেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সকল সময় প্রস্তুত সেই বিষয়ে আলোচনা করার। সেটি আমরা যে অবস্থানেই থাকি না কেন, সকল সময় আমরা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতে, সেই প্রস্তাবে আলোচনা করতে আমরা রাজি আছি।
তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা একটি প্রস্তাব দিয়েছেন যে, আমরা বিরোধী দল, সরকারি দল সকলে মিলে কেন আমরা আলোচনা করতে পারি না? আমি সংসদকে অবহিত করতে চাই সংসদ নেতা হিসেবে যে, অবশ্যই আমরা বিরোধী দলকে আমন্ত্রণ জানাবো আমাদের অবস্থান থেকে। আমরা বসবো, আমরা আলোচনা করবো। আমরা উনাদের প্রস্তাব দেখবো। যদি উনাদের প্রস্তাবে বাস্তবতার নিরীখে কোন কিছু থাকে যে, এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব, অবশ্যই আমরা তা করবো। কেন করবো না?
তারেক রহমান বলেন, আমরা যে অবস্থানেই এই ফ্লোরের যেদিকেই বসি না কেন, বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার জন্য। কাজেই বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ, যে আলোচনা করলে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে, যে কাজ করলে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে, ইনশাআল্লাহ আমরা অবশ্যই সেই কাজ করবো।
দেশে চলমান জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে পড়ে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে ৩ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে এই জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি ‘যৌথ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জ্বালানি তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে দুই-চার লিটার সংগ্রহ করতে এসে হিট স্ট্রোক করে ৩ জন কৃষক মারা গেছেন। মানুষ দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পে অপেক্ষা করছে। আমি নিজে দেখেছি, ৫ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে। যারা দিনে ১৫০০-২০০০ টাকা রুজি করতেন, তেলের অভাবে এখন তাদের ৫০০-৭০০ টাকাও হচ্ছে না। এই গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষগুলোর প্রতি আমাদের সুদৃষ্টি দেয়া উচিত।
জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আমাদের শর্ট টার্ম, মিড টার্ম এবং লং টার্ম স্ট্র্যাটেজি থাকতে হবে। যদি সরকারি দল মনে করে একটি কমন বা যৌথ কমিটি করা দরকার, তবে আমরা তাতে সাড়া দেব। আমাদের কাছে কিছু প্রপোজাল (প্রস্তাবনা) আছে, যা আমরা সরকারের হাতে তুলে দিতে চাই।
এরআগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এটাকে আমি সংকট বলতে চাই না। শুধু প্রস্তাবের কারণে আমি এখানে সংকট শব্দটা ব্যবহার করলাম। যেহেতু আপনি দেশব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকট বিষয়টা বলেছেন, উল্লেখ করেছেন। আমরা গণতন্ত্রের যাত্রা অব্যাহত রাখবো। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এই মহান জাতীয় সংসদ থাকবে। জাতীয় সংসদের বাইরে কোনো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হোক, সেটা আমাদের কাম্য নয়। যদি সেরকম কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, সেটা অন্য বিষয়।
অনলাইন ডেস্ক. 






















