ঢাজা ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চৌদ্দগ্রামে স্বামীর দেওয়া আগুনে দ্বগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধিন অবস্থায় গৃহবধূর মৃত্যু

 

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে স্বামীর দেওয়া আগুনে দ্বগ্ধ হয়ে ৭ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে ফাতেমা বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধূ। গৃহবধূর গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গুনবতী ইউনিয়নের চাঁপাচৌ গ্রামে। ফাতেমা ওই গ্রামের জাবেদ হোসেন (৩৫) ড্রাইভারের স্ত্রী। মৃত্যুর তথ্যটি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিশ্চিত চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। গৃহবধূর গায়ে আগুন দেওয়ার পর থেকেই স্বামী জাবেদ ড্রাইভার পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওসি।

এদিকে মৃত্যুর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অগ্নিদ্বগ্ধ গৃহবধূ ফাতেমা একটি ভিডিও ফুটেজে অভিযোগ করে বলেন, আমি বাড়িতে গিয়ে আমের ভর্তা বানিয়ে দিয়েছি, সন্ধ্যায় আমাকে গালিগালাজ করে একপর্যায়ে আমার গলা টিপে ধরে আমার স্বামী। একপর্যায়ে আমি মাটিতে পড়লে খাটের নিচ থেকে তৈলের (জ্বালানি তেল) বোতল খুলে আমার গায়ে তেল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় সে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের বুরনকরা গ্রামের আবুল হাসেম প্রকাশ টুকু মিয়ার মেয়ে ফাতেমা বেগমের সাথে পাশ্ববর্তী গুনবতী ইউনিয়নের চাঁপাচৌ গ্রামের অলি আহমদের ছেলে জাবেদ হোসেন ড্রাইভারের সাথে ১০ বছর পূর্বে সামাজিকভাবে শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে তাদের পারিবারিক কলহ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে গত ১৩ এপ্রিল (সোমবার) রাতে স্বামী-স্ত্রী ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে ফাতেমার শরীরে আগুন দেয় ফাতেমার স্বামী। এ সময়ে তার চিৎকারে আশে-পাশের লোকজন এগিয়ে আসে জাবেদ পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহয়তায় গৃহবধূকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় স্বজনরা। সেখানে ফাতেমার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করে। সেখানে ৭ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত রোববার ভোরে গৃহবধূ ফাতেমা মারা যায়। ফাতেমার মৃত্যুর পর স্বজনরা লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নিয়ে আসার চেষ্টা করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থানা পুলিশকে বিষযটি অবগত করে। পরে পুলিশ গৃহবধূ ফাতেমার লাশ তাদের জিম্মায় নিয়ে মৃত্যুর তথ্য জানতে চেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানাকে খবর দেয়। আইনী প্রক্রিয়া ও লাশের ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানান, সোমবার সকালে ঢাকার শাহবাগ থানা থেকে মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। উপজেলার গুনবতীর চাঁপাচৌ গ্রামের ফাতেমা বেগম নামে এক গৃহবধূ অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুবরণ করে। অগ্নিকান্ডের ঘটনার তথ্য জানতে চেয়েছে তারা। তদন্তে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল রাতে পারিবারিক কলহের জেরে ফাতেমা বেগম নামে ওই গৃহবধূ অগ্নিদ্বগ্ধ হয়।

ওসি আরো জানান, ফাতেমার স্বামী জাবেদ হোসেন একজন গাড়ি চালক। তার ঘরে পেট্রোল ও অকটেন জাতীয় তৈল পূর্ব থেকে মজুদ ছিলো। দু’জনের ঝগড়ার একপর্যায়ে মজুদকৃত জ¦ালানি তৈল দিয়ে অগ্নিদ্বগ্ধের ঘটনা ঘটে। আমরা তদন্ত প্রতিবেদনটি শাহবাগ থানায় প্রেরণ করেছি। গৃহবধূর পরিবার যদি কোন মামলা দায়ের করতে চায়, তাহলে আমরা তাদেরকে আইনগত সহযোগিতা করবো।

গুনবতী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাদ্দাম হোসেন বলেন, জাবেদ ড্রাইভার একজন গাড়ি চালক। তৈলের এই সংকটের সময়ে তিনি নিজ ঘরে জ¦ালানি তৈল মজুদ করে রাখতো। আর সেই মজুদকৃত তৈলেই অগ্নিদ্বগ্ধের ঘটনা ঘটে। তাদের বিয়ের পর থেকেই পারিবাহিক কলহ চলে আসছিলো।

নিহত গৃহবধূ ফাতেমা বেগমের চাচাতো ভাই আসিফ মঙ্গলবার সন্ধায় জানান, আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে ঘরের ভিতর রাখা মজুদকৃত তৈল গায়ে ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোরে সে বার্ন ইউনিটে মৃত্যুবরণ করে। ময়নাতদন্তের কাজ শেষে পুলিশ লাশ হস্তান্তর করে। মর্মান্তিক এ হত্যাকান্ডের বিচার চাই। ফাতেমা অগ্নিদ্বগ্ধ হওয়ার পর থেকেই তার স্বামী জাবেদ হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে।

 

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

বেইজিংয়ে বিএনপি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে চীনের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা

চৌদ্দগ্রামে স্বামীর দেওয়া আগুনে দ্বগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধিন অবস্থায় গৃহবধূর মৃত্যু

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০১:৫০:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

 

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে স্বামীর দেওয়া আগুনে দ্বগ্ধ হয়ে ৭ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে ফাতেমা বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধূ। গৃহবধূর গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গুনবতী ইউনিয়নের চাঁপাচৌ গ্রামে। ফাতেমা ওই গ্রামের জাবেদ হোসেন (৩৫) ড্রাইভারের স্ত্রী। মৃত্যুর তথ্যটি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিশ্চিত চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। গৃহবধূর গায়ে আগুন দেওয়ার পর থেকেই স্বামী জাবেদ ড্রাইভার পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওসি।

এদিকে মৃত্যুর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অগ্নিদ্বগ্ধ গৃহবধূ ফাতেমা একটি ভিডিও ফুটেজে অভিযোগ করে বলেন, আমি বাড়িতে গিয়ে আমের ভর্তা বানিয়ে দিয়েছি, সন্ধ্যায় আমাকে গালিগালাজ করে একপর্যায়ে আমার গলা টিপে ধরে আমার স্বামী। একপর্যায়ে আমি মাটিতে পড়লে খাটের নিচ থেকে তৈলের (জ্বালানি তেল) বোতল খুলে আমার গায়ে তেল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় সে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের বুরনকরা গ্রামের আবুল হাসেম প্রকাশ টুকু মিয়ার মেয়ে ফাতেমা বেগমের সাথে পাশ্ববর্তী গুনবতী ইউনিয়নের চাঁপাচৌ গ্রামের অলি আহমদের ছেলে জাবেদ হোসেন ড্রাইভারের সাথে ১০ বছর পূর্বে সামাজিকভাবে শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে তাদের পারিবারিক কলহ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে গত ১৩ এপ্রিল (সোমবার) রাতে স্বামী-স্ত্রী ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে ফাতেমার শরীরে আগুন দেয় ফাতেমার স্বামী। এ সময়ে তার চিৎকারে আশে-পাশের লোকজন এগিয়ে আসে জাবেদ পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহয়তায় গৃহবধূকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় স্বজনরা। সেখানে ফাতেমার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করে। সেখানে ৭ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত রোববার ভোরে গৃহবধূ ফাতেমা মারা যায়। ফাতেমার মৃত্যুর পর স্বজনরা লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নিয়ে আসার চেষ্টা করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থানা পুলিশকে বিষযটি অবগত করে। পরে পুলিশ গৃহবধূ ফাতেমার লাশ তাদের জিম্মায় নিয়ে মৃত্যুর তথ্য জানতে চেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানাকে খবর দেয়। আইনী প্রক্রিয়া ও লাশের ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানান, সোমবার সকালে ঢাকার শাহবাগ থানা থেকে মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। উপজেলার গুনবতীর চাঁপাচৌ গ্রামের ফাতেমা বেগম নামে এক গৃহবধূ অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুবরণ করে। অগ্নিকান্ডের ঘটনার তথ্য জানতে চেয়েছে তারা। তদন্তে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল রাতে পারিবারিক কলহের জেরে ফাতেমা বেগম নামে ওই গৃহবধূ অগ্নিদ্বগ্ধ হয়।

ওসি আরো জানান, ফাতেমার স্বামী জাবেদ হোসেন একজন গাড়ি চালক। তার ঘরে পেট্রোল ও অকটেন জাতীয় তৈল পূর্ব থেকে মজুদ ছিলো। দু’জনের ঝগড়ার একপর্যায়ে মজুদকৃত জ¦ালানি তৈল দিয়ে অগ্নিদ্বগ্ধের ঘটনা ঘটে। আমরা তদন্ত প্রতিবেদনটি শাহবাগ থানায় প্রেরণ করেছি। গৃহবধূর পরিবার যদি কোন মামলা দায়ের করতে চায়, তাহলে আমরা তাদেরকে আইনগত সহযোগিতা করবো।

গুনবতী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাদ্দাম হোসেন বলেন, জাবেদ ড্রাইভার একজন গাড়ি চালক। তৈলের এই সংকটের সময়ে তিনি নিজ ঘরে জ¦ালানি তৈল মজুদ করে রাখতো। আর সেই মজুদকৃত তৈলেই অগ্নিদ্বগ্ধের ঘটনা ঘটে। তাদের বিয়ের পর থেকেই পারিবাহিক কলহ চলে আসছিলো।

নিহত গৃহবধূ ফাতেমা বেগমের চাচাতো ভাই আসিফ মঙ্গলবার সন্ধায় জানান, আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে ঘরের ভিতর রাখা মজুদকৃত তৈল গায়ে ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোরে সে বার্ন ইউনিটে মৃত্যুবরণ করে। ময়নাতদন্তের কাজ শেষে পুলিশ লাশ হস্তান্তর করে। মর্মান্তিক এ হত্যাকান্ডের বিচার চাই। ফাতেমা অগ্নিদ্বগ্ধ হওয়ার পর থেকেই তার স্বামী জাবেদ হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে।