ঢাজা ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নোয়াবের বৈঠক: সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় সরকারের দৃঢ় অবস্থান

মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নোয়াব সদস্যদের বৈঠক। ছবি : পিএমও


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি তাঁর সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং সংবাদপত্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য উৎসাহিত করে।

মঙ্গল বার  বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত পত্রিকা পড়েন এবং টেলিভিশন দেখেন। গণমাধ্যমে দেশের যে চিত্র উঠে আসে, সে বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ধৈর্য সহকারে নোয়াব সদস্যদের বক্তব্য শোনেন এবং ভবিষ্যতেও নির্দিষ্ট সময় পরপর এ ধরনের মতবিনিময় সভা আয়োজনের আশ্বাস দেন।

বৈঠকের শুরুতে নোয়াবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। তিনি সংবাদপত্র শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা তুলে ধরে সেগুলোর সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

নোয়াব সদস্যরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। তারা ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং বর্তমানে এ খাতটি রুগ্ন শিল্পে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

এ সময় নোয়াব নেতারা জানান, বিগত সরকারগুলোর আমলের বিপুল সরকারি বিজ্ঞাপন বিল এখনো বকেয়া রয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করা হয়। পাশাপাশি সরকার ও সংবাদপত্র মালিকদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠকের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তিন মাস পরপর এ ধরনের বৈঠক আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

বৈঠকে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকদের জামিনের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

দুপুর ২টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া বৈঠকটি বিকেল সাড়ে ৩টায় শেষ হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন এবং গ্রুপ ছবিতে অংশগ্রহণ করেন। বিএনপি সরকার গঠনের পর নোয়াবের সঙ্গে এটি প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া নোয়াবের সহ-সভাপতি এএসএম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ আলতামাশ কবির, সদস্য এ কে আজাদ, দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক, পূর্বকোণের সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর প্রকাশক নাসিম মনজুর উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

বেইজিংয়ে বিএনপি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে চীনের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নোয়াবের বৈঠক: সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় সরকারের দৃঢ় অবস্থান

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০৩:২৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি তাঁর সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং সংবাদপত্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য উৎসাহিত করে।

মঙ্গল বার  বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত পত্রিকা পড়েন এবং টেলিভিশন দেখেন। গণমাধ্যমে দেশের যে চিত্র উঠে আসে, সে বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ধৈর্য সহকারে নোয়াব সদস্যদের বক্তব্য শোনেন এবং ভবিষ্যতেও নির্দিষ্ট সময় পরপর এ ধরনের মতবিনিময় সভা আয়োজনের আশ্বাস দেন।

বৈঠকের শুরুতে নোয়াবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। তিনি সংবাদপত্র শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা তুলে ধরে সেগুলোর সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

নোয়াব সদস্যরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। তারা ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং বর্তমানে এ খাতটি রুগ্ন শিল্পে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

এ সময় নোয়াব নেতারা জানান, বিগত সরকারগুলোর আমলের বিপুল সরকারি বিজ্ঞাপন বিল এখনো বকেয়া রয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করা হয়। পাশাপাশি সরকার ও সংবাদপত্র মালিকদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠকের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তিন মাস পরপর এ ধরনের বৈঠক আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

বৈঠকে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকদের জামিনের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

দুপুর ২টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া বৈঠকটি বিকেল সাড়ে ৩টায় শেষ হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন এবং গ্রুপ ছবিতে অংশগ্রহণ করেন। বিএনপি সরকার গঠনের পর নোয়াবের সঙ্গে এটি প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া নোয়াবের সহ-সভাপতি এএসএম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ আলতামাশ কবির, সদস্য এ কে আজাদ, দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক, পূর্বকোণের সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর প্রকাশক নাসিম মনজুর উপস্থিত ছিলেন।