দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য আর অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে বিপর্যস্ত ছিল ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। প্রতিদিনের সঙ্গী ছিল যানজট, দুর্ঘটনা আর যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হাইওয়ে পুলিশের ধারাবাহিক ও মানবিক উদ্যোগে বদলাতে শুরু করেছে সেই চিত্র। ধীরে ধীরে ফিরছে শৃঙ্খলা, বাড়ছে স্বস্তি।
সালনা, নাওজোড় ও মাওনা হাইওয়ে থানার পুলিশের সমন্বিত অভিযানে মহাসড়কজুড়ে অবৈধ যানবাহনের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নসিমন-করিমন, ভটভটি ও অনুমোদনহীন থ্রি-হুইলার যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি চালকদের সচেতন করতেও নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।
মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট স্থাপন, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং চালক-যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে একটি ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে। পুলিশের এই নিরলস প্রচেষ্টায় মহাসড়কে যান চলাচল এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি স্বস্তি ফিরেছে দূরপাল্লার যাত্রীদের মাঝে। তারা জানান, আগে যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হতো, এখন সেখানে যাত্রা হচ্ছে অনেকটাই নির্বিঘ্ন ও সময় সাশ্রয়ী। পরিবহন চালকরাও বলছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমেছে এবং নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অভিযান কোনো সাময়িক উদ্যোগ নয়; বরং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। মহাসড়কে স্থায়ী শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে শ্রমিক নেতারা মনে করেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি বিকল্প সড়ক ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় যানবাহনের জন্য নির্ধারিত রুট চালু এবং সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা গেলে এই ইতিবাচক পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সালনা, নাওজোড় ও মাওনা হাইওয়ে থানার পুলিশের সমন্বিত মানবিক উদ্যোগে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যে শৃঙ্খলার আভাস মিলছে, তা টেকসই হলে দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।