• বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন
Headline
পাঁচ লাখ টাকায় কিডনি বিক্রি, মাস না পেরোতেই চুরির মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচবিবিতে অটো ছিনতাইয়ের অভিযোগে চালককে হত্যা, নির্জন স্থানে মিলল মরদেহ শিক্ষার্থীর সার্বিক কল্যাণে আধুনিক ও নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই —মিরপুর মডেল একাডেমির অভিভাবক-শিক্ষক মতবিনিময় সভায় আলহাজ্ব রুহুল আমিন সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে ডেমরা থানা কমিটির শোক শিক্ষাঙ্গনে মাদক, ইভটিজিং ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে মাউশির নতুন নির্দেশনা আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় উঠছে প্রস্তাব ডিএমপির শ্রেষ্ঠ অপরাধ বিভাগ মিরপুর, শ্রেষ্ঠ থানা মিরপুর মডেল জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এগোচ্ছে সরকার, আলোচনায় বিরোধী দলকে আমন্ত্রণ নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার নিন্দা সাবেক ১২ উপদেষ্টার রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের শেষ প্রস্তুতি

জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী : ২৬ অক্টোবর 

বিশেষ প্রতিনিধি / ২৪ Time View
Update : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে মূল অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। গতকাল রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারত্ব : বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক সেমিনারে অংশগ্রহণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাপান সফরে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করা, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সুদৃঢ় করা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় জাপান সফরেও বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন অংশীদারত্বকে প্রাধান্য দেবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক বিনিয়োগ অংশীদারত্ব চায়। জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এবং দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, কয়েকটি মেগা প্রকল্পে জাপানি বিনিয়োগ দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী কূটনৈতিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত এপ্রিলে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানি সংকট ও স্থায়িত্ব মোকাবিলায় জাপানের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সম্মেলনে যুক্ত হয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেই সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ওপর জাপানি সরকারের আস্থা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তিনি জানান, আসন্ন সফরে খাতভিত্তিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এদিকে পবিত্র মক্কা ও মদিনার মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলেও জানাান হুমায়ুন কবির। এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ যা করার তা করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি। মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, মক্কা ও মদিনা যে অঞ্চলে অবস্থিত, সেই অঞ্চলে অসংখ্য মুসলমানের বসবাস। মুসলিম দেশগুলোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের বিশ্বব্যাপী কার্যক্রমে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। এ কারণে মক্কা চুক্তির উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

তিনি বলেন, মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো আমন্ত্রণ বা জবাব এসেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ প্রশ্নের উত্তর আগেই দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার- পবিত্র মক্কা ও মদিনার বিষয়ে কোনো আপস নেই।

সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এত দিন দুই দেশের সম্পর্ক মূলত শ্রমিক পাঠানো ও রেমিট্যান্স আনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন সেই প্রচলিত সম্পর্কের বাইরে গিয়ে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। স্টার রিফাইনারি-২ প্রকল্পে সৌদি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ বাড়ছে। সৌদি আরবের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সফর করছেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও সৌদি আরব সফর করছেন। তিনি বলেন, শুধু সৌদি আরব নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও বিনিয়োগ অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে হবে। প্রচলিত শ্রমবাজারকেন্দ্রিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক খাতেও সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নীতির ভিত্তিতে অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category