কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার তুলাতুলী গ্রামের আব্দুল বাতেন মৃধা নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নানা প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, বাতেন মৃধা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসায় বর্তমানে এলাকার মানুষ তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। বিগত সরকারের আমলে ‘মুজিব সেনা ঐক্যলীগ’ কেন্দ্রীয় কমিটির পদ ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তারকারী এই ব্যক্তি বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মুখে ভোল পাল্টে ভিন্ন বলয়ের আশ্রয় নিয়ে সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
প্রতারণার অভিনব কৌশল
অভিযোগে প্রকাশ, আব্দুল বাতেন মৃধা নিজেকে উচ্চশিক্ষিত এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে প্রকাশ করে আসছিলেন। তিনি নিজকে প্রভাবশালী ও উচ্চশিক্ষিত ভাব ধরে মানুষের সাথে অহরহ প্রতারণা করে যাচ্ছেন। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, তার শিক্ষাগত যোগ্যতার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, প্রকৃতপক্ষে তিনি এসএসসিও পাস করেননি। এই মিথ্যা শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রচার করে এবং বর্তমানে জামায়াতের নাম ভাঙিয়ে তিনি এলাকায় নতুন করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
চাকুরি ও বিদেশ পাঠানোর নামে অর্থ আত্মসাৎ
মেঘনার বিভিন্ন পরিবারের অভিযোগ, চাকুরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাতেন মৃধা অসংখ্য পরিবারের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে কয়েকটি হিন্দু পরিবারকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে সর্বস্বান্ত করার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। তার ভাই আহসান উল্লাহর রাজনৈতিক প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেও তিনি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতেন বলে জানা গেছে।
অপরাধের বিচিত্র ধরণ
স্থানীয়রা জানান, তার কর্মকাণ্ড কেবল অর্থ আত্মসাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বিভিন্ন ভুয়া পরিচয়ে চাঁদাবাজি, বাটপারি এবং নারীদের নানাভাবে প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তিনি কৌশলে জামায়াত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে নিজের অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করছেন বলে মেঘনাবাসীর মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
বাতেন মৃধার এই সীমাহীন দুর্নীতির কারণে অনেক পরিবার আজ পথের ভিখারি। তার ভুয়া সার্টিফিকেট এবং অন্যান্য ভুয়া পরিচয়পত্রের সত্যতা যাচাই করতে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, একজন এসএসসি অনুত্তীর্ণ ব্যক্তি কীভাবে বছরের পর বছর মিথ্যা পরিচয় দিয়ে জননিপীড়ন চালিয়ে আসছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা দ্রুত তাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত শুরু হলে তার কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের উৎস এবং জালিয়াতির প্রকৃত স্বরূপ বেরিয়ে আসবে বলে সচেতন মহলের ধারণা।
এবিষয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে, ফলে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।