আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইন সহায়তা কেন্দ্র আসক ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এর পক্ষ হতে সম্মেলন করেন সংস্থার চেয়ারম্যান মোঃ শামসুল আলম, সাথে ছিলেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশন (এফবিজেও) এর চেয়ারম্যান ও জাতীয় দৈনিক একুশে সংবাদ এর সম্পাদক ও প্রকাশক ড. শাহজাহান মজুমদার, রুরাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ) এর চেয়ারম্যান ও জাতীয় দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, কাফরুল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জাতীয় দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার যুগ্ম সম্পাদক ডঃ এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ, হাজারীবাগ থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও এফবিজেওর ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মুফতি মাওলানা আজিম উদ্দিন।
সংস্থার চেয়ারম্যান বলেন,
আজ আমরা আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি জনস্বাস্থ্যের ওপর এক চরম হুমকির বিষয়ে তথ্য তুলে ধরতে। জীবনরক্ষাকারী পণ্য ‘মেডিকেল অক্সিজেন’ নিয়ে চট্টগ্রামে গত ১৪ বছর ধরে ‘দি বিলকিন’ (The Bilkin) নামক একটি প্রতিষ্ঠান যে ভয়াবহ জালিয়াতি ও অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছে, তা আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরাই আমাদের আজকের উদ্দেশ্য।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও অনুসন্ধানী তথ্য:
১. বৈধ কাগজপত্রের অনুপস্থিতি: অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ‘দি বিলকিন’-এর নামে কোনো ফায়ার লাইসেন্স, বিস্ফোরক লাইসেন্স, টিন সার্টিফিকেট কিংবা ঔষধ প্রশাসনের কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। প্রতিষ্ঠানটি মূলত শাহাদাত ইসলাম নামক এক ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
২. লাইসেন্স জালিয়াতি: অনুসন্ধানে দুটি ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যায়। একটি শাহাদাতের বাবার নামে, যেখানে ব্যবসার ধরন ‘জেনারেটর সার্ভিস’ এবং অন্যটি তার ভাইয়ের নামে, যেখানে কেবল ‘সরবরাহকারী’ লেখা রয়েছে। মেডিকেল অক্সিজেন সরবরাহের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো লাইসেন্স বা অনুমতি তাদের নেই।
৩. বিপজ্জনক গুদাম: ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ করা হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিদুর্ঘটনা বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি করছে।
৪. চাকরির আড়ালে অবৈধ ব্যবসা: শাহাদাত ইসলাম ‘লিংডা বাংলাদেশ’ ও ‘জিপিএইচ ইস্পাত’-এ চাকরিরত থাকা অবস্থায় গোপনে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। জিপিএইচ ইস্পাত কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এই প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিষয়ে অবগত হয়ে তাদের ডিলারশিপ বাতিলের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
৫. মালিকানা নিয়ে লুকোচুরি: শাহাদাত ইসলাম নিজেকে আড়ালে রাখতে নাজিম নামক একজনকে দিয়ে মালিকানা দাবি করান। নাজিম নিজেই কল রেকর্ডে স্বীকার করেছেন যে, তিনি বাবা, বন্ধু বা কাজিনের নাম ব্যবহার করে ব্যবসা চালান, যা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত।
৬. হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক ভূমিকা: ডায়াবেটিস হাসপাতাল, মা ও শিশু হাসপাতাল, সার্জিস্কোপ, ল্যানসেটসহ চট্টগ্রামের নামী বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতালে তারা এই অক্সিজেন সরবরাহ করছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের কাগজপত্র যাচাই না করেই বছরের পর বছর এই সেবা নিচ্ছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে আর্থিক স্বার্থে জড়িত।
আমাদের দাবি ও আহ্বান:
ঔষধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক বাদল সিকদার জানিয়েছেন যে, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি:
তদন্তের মাধ্যমে ‘দি বিলকিন’-এর গুদাম সিলগালা করা হোক।
মালিক দাবিদার শাহাদাত ইসলাম ও নাজিমসহ সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক।
যেসব হাসপাতাল জেনেশুনে এসব অবৈধ অক্সিজেন গ্রহণ করছে, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হোক।
উপসংহার:
মানুষের জীবন নিয়ে এই মরণখেলা আর চলতে পারে না। আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে এই চক্রের মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করার সহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের নিকট আমার সংগঠনের পক্ষ হতে জানাচ্ছি।
-প্রেস রিলিজ