• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন
Headline
জনগণের আস্থা অর্জনই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব নারায়ণগঞ্জে বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে জেলা পুলিশ সুপার থানায় ঢুকে ৩ পুলিশকে পেটানোর অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ ‘জয়পুরহাটে চিনি চাম্পা কলার দামে ধস, উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম কৃষকরা’ চৌদ্দগ্রামের মানুষের পাশে এ.এম.এম. মাখদুম (মাছুম) মিরসরাইয়ে জোরারগঞ্জ পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১০, চার মাদকসেবীর কারাদণ্ড সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শোকের মাতম জয়পুরহাটে অটোভ্যানচালক হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৪

সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

একুশে সংবাদ ডেস্ক / ৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আপসহীন থাকার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার।’ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ এ দেশের নাগরিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

বুধবার সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে, তখন বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারছে। এটি দেশের সবচেয়ে বড় অর্জন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বাংলাদেশের শক্তি ও অস্তিত্বের অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে এ সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

তিনি বলেন, কখনো কখনো গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হয়। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে দৃঢ় ও আপসহীন থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সবার দেশ। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ে তুলতে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া যাবে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্যের অন্যতম ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আনন্দঘন এ অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে সবাইকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত শিক্ষা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ উৎসবের মূল বাণী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোষ্ঠীগত পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত হলে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আগত অতিথি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category