আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশে কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, এ বছর কোরবানির পশু আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই এবং পশুর দামও সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।
রোববার সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, এবারের ঈদকে সামনে রেখে সারা দেশে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখেরও বেশি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত রয়েছে। দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত এসব পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, গত বছরের মতো এবারও দেশের বাইরে থেকে কোনো গবাদি পশু আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে না। এ লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী হাটগুলোর ইজারা আগেভাগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কোরবানির হাট ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরে ২৭টিসহ সারা দেশে ৩ হাজার ৬০০টিরও বেশি পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৬টি এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১১টি হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া কোথাও হাট বসতে দেওয়া হবে না এবং রাস্তাঘাটে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়—এমন কোনো কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
গরু মোটাতাজাকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতের মতো এবারও কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
অনলাইন পশু কেনাবেচার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, অনলাইনে গরু বেচাকেনার ক্ষেত্রে কোনো খাজনা দিতে হবে না। তবে হাট থেকে সরাসরি পশু ক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত খাজনা বা হাসিল পরিশোধ করতে হবে।
পশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল নিয়োজিত থাকবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, কোরবানির পশু পরিবহনে সড়ক ও নৌপথে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।