ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানে কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তিনি বলেন, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি তাদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে এবং মূল্য পরিশোধ করা হবে ব্যাংকের মাধ্যমে।
রোববার নেত্রকোণা, জেলা শহরের মোক্তারপাড়ার পাবলিক হলে ২০২৬ মৌসুমের অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল এবং গ্রামীণ নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড চালু, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় নেতাদের ভাতা প্রদান উল্লেখযোগ্য।
হাওর অঞ্চলের কৃষকদের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ ও সিলেটসহ হাওর এলাকায় আগাম বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কথা বিবেচনা করে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের আগেই শুরু করা হয়েছে। কৃষকরা যাতে ক্ষতির সম্মুখীন না হন, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।
ধান সংগ্রহ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কৃষকরা যত ধান দিতে পারবেন, সরকার তত ধানই সংগ্রহ করবে। প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ধান ও চাল সংগ্রহের প্রস্তুতি রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, কৃষক যেন ন্যায্য মূল্য পান—এটাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। কৃষি কার্ড চালু করা হয়েছে এবং আগামী জুলাই থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারিভাবে পোশাক সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান।
সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত কন্ট্রোল রুম, স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের জানাতে কৃষকদের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো কার্যক্রম তদারকি করছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তর আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক, নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. নুরুজ্জামান (নুরু)।
জেলা খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরকার ৩৬ টাকা কেজি দরে ২০ হাজার ৪১৫ মেট্রিক টন ধান এবং ৪৯ টাকা কেজি দরে ৫৫ হাজার ৫৮৫ মেট্রিক টন বোরো সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করবে। জেলার ১০টি উপজেলার ৭৭ জন ডিলারের মাধ্যমে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।