শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশের আরও পাঁচ জেলায় নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ এর প্রথম দিনে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
রোববার সচিবালয় সংলগ্ন ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী সম্মেলনে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সম্মেলনে বরিশাল, বরগুনা, পিরোজপুর, লালমনিরহাট এবং গাজীপুর জেলায় নতুন ইপিজেড স্থাপনের সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এসব ইপিজেড বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে শিল্পায়নের গতি বাড়বে, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এছাড়া খাল খনন কর্মসূচিতে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ছাত্র-ছাত্রী, তরুণ ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তাব উঠে আসে, যাতে জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়। এ কার্যক্রম তদারকিতে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে সমন্বিত কমিটি গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আগাম প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়ে সম্মেলনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে পূর্বপ্রস্তুতি জোরদার করতে হবে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, সতর্কবার্তা প্রচার এবং উদ্ধার সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য খাতে জলাতঙ্ক ও সাপের কামড় প্রতিরোধে ভ্যাকসিন মজুত, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং অবৈধ ক্লিনিক ও ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং জেলা সদর হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
শিক্ষা খাতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে ‘রিটায়ার্ড টিচার্স পুল’ গঠন, নির্ধারিত সময়ে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রাথমিক শিক্ষায় অভিন্ন স্কুল ড্রেস চালু, মিড-ডে মিল কর্মসূচি এবং খেলাধুলা-সংস্কৃতি কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
এছাড়া সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আয়বর্ধক কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণ সুবিধা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।