নিজস্ব প্রতিবেদক:
সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন অনেকাংশেই জেলা প্রশাসকদের কার্যকর ভূমিকার ওপর নির্ভরশীল। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ডিসিরা সরাসরি মাঠপর্যায়ে কাজ করেন এবং এ সময় তারা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। সম্মেলনে এসব সমস্যা, প্রত্যাশা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে এবং সমাধানের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনে যেখানে মাত্র ২০ শতাংশ কাজ হয়েছিল, তা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ৪৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সড়ক শৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন অনিয়মের দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সড়কের দুই পাশ দখল, রাস্তার ওপর বাজার বা পশুর হাট বসানো, অতিরিক্ত পণ্যবাহী যান চলাচল, অবৈধ বিলবোর্ড স্থাপন এবং অনিয়ন্ত্রিত স্পিড ব্রেকার নির্মাণ—এসব বিষয়ে ডিসিদের আরও সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নদী ও সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখতে তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
হাইওয়েতে অবাধে থ্রি-হুইলার চলাচল নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হলেও ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রেলক্রসিং দুর্ঘটনা ও ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা আঞ্চলিক ও জেলা সড়কেও সম্প্রসারণ করা হবে।
চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে তৎপর রয়েছে।
সবশেষে তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র ও মাঠ প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করতে হবে। ডিসিদের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া সড়ক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।