হঠাৎ করে আজ বৃহস্পতিবার সকালে হুমায়রার শিক্ষার্থীর বড় ভাই জাহিদ বিদ্যালয়ে এসে তার বোনের রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে জানতে চান। অফিস সহকারী মামুনুর রশিদ তাকে রেকর্ডপত্র দেখান। এরপর জাহিদ রেজিস্ট্রেশন বিজ্ঞান বিভাগ নয় মানবিক বিভাগ হবে বলে তর্কে জড়ান। তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে চলে যান।
এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয় চলাকালীন হুমায়রার বাবা আঁওড়া মহল্লার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন, ভাই জাহিদ, চাচাত ভাই মোর্শেদুল সহ ৬-৭ জন হাতে লাঠি, মাটি কাটা কোদাল, রড ও হাঁসুয়া নিয়ে অফিস সহকারী মামুনুর রশিদের ওপর হামলা করে। তখন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে ছুটাছুটি করতে থাকে।
একপর্যায়ে হামলাকারিরা মামুনুর রশিদকে মারধর করে এবং কক্ষের ভিতরে থাকা কম্পিউটার, প্রিন্টার, টেবিল, আলমিরা, চেয়ার ভাংচুর করে। এরপর বিদ্যালয়ের সততা স্টোরের মালপত্র ও বাক্সে থাকা টাকা এবং বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে সবাইকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে চলে যান।
কেউ যদি এই ঘর খোলার চেষ্টা করেন, তাহলে তারও খবর আছে বলে হুমকি দেন হামলাকারিরা।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তালা কেটে অফিস কক্ষে ঢুকেন এবং ভাংচুরকৃত মালামাল দেখেন।
মামুনুর রশিদ বলেন, ‘শিক্ষার্থী হুমায়রা বিজ্ঞান বিভাগে পড়ত। তার রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। এখন সে মানবিক বিভাগে ক্লাস করবে। আজ সকালে তার ভাই এসে জানতে চায়, মানবিক বিভাগের ছাত্রী হয়ে বিজ্ঞান বিভাগে রেজিস্ট্রেশন কেন করা হয়েছে। তারপরও বলা হয়েছে, যদি বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে না চায়, তাহলে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এরপর ওই শিক্ষার্থীর বাবা, ভাই ও তাদের সহযোগীরা এসে আমাকে মারধর, অফিস ভাংচুর, কাগজপত্র লুট ও সততা স্টোরের মালামাল ও টাকা নিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে চলে যায়। তারা যাওয়ার সময় সবাইকে হত্যার হুমকিও দেয়।’
বিদ্যালয়ের আয়া মাহবুবা খাতুন বলেন, ‘আমি বাইরে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দেখি তারা কোদাল ও লাঠি হাতে নিয়ে অফিস কক্ষে প্রবেশ করে অফিস সহকারিকে মারধর করে এবং অফিস ভাঙচুর করে। তখন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ছুটাছুটি করতে থাকে। পরে পুলিশ এসে তালাকেটে ঘরের দরজা খুলে দেখে যায়।’
সহকারী শিক্ষক দুলাল চন্দ্র বসাক বলেন, ‘হুমায়রা বিজ্ঞান বিভাগে পড়ত এবং সেভাবেই তার রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। তারা হঠাৎ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে অফিসে হামলা করেছে। রেজিস্ট্রেশন সংশোধন করার সময়ও আছে। তাহলে তারা কেন হামলা, ভাংচুর ও লুট করবে।’
অভিযুক্ত জাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সেখানে গিয়েছিলাম এটা সত্য, তবে কাউকে মারধর বা ভাংচুর করিনি।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী কালাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অফিস কক্ষের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, কম্পিউটারসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মস্তফা খান বলেন, ‘হুমায়রার বাবা অনেক আগে থেকেই স্কুলের বিরোধীতা করে আসছে, যা এই এলাকার সবাই জানেন। রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তারপরও তারা কয়েকজন মিলে অফিস কক্ষে হামলা, মারপিট, কাগজপত্র ও সততা স্টোরের মালামাল ও টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে সবাইকে জানানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।’