• মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৮ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে ইরানে পেট্রোলের দাম বাড়ল

আন্তজাতিক ডেস্ক / ৮ Time View
Update : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করার মধ্যেই দেশটির কর্তৃপক্ষ রোববার বেশি জ্বালানি ব্যবহারকারীদের জন্য পেট্রোলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানে নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী পেট্রোলের দাম তিন ধাপে নির্ধারিত হয়। একজন ভোক্তা প্রতি মাসে প্রথম ৬০ লিটার পেট্রোলের জন্য প্রতি লিটারে ১,৫০০ তোমান, পরবর্তী ৫০ লিটারের জন্য ৩,০০০ তোমান ও এরপর অতিরিক্ত ব্যবহারের জন্য প্রতি লিটারে ৫,০০০ তোমান দেন। তোমান ইরানে প্রচলিত একটি অনানুষ্ঠানিক মুদ্রা একক, যা ১০ ইরানি রিয়ালের সমান।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

রোববার সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, তৃতীয় ধাপের পেট্রোলের দাম দ্বিগুণ করে প্রতি লিটার ১০ হাজার তোমান করা হবে। ইরানের স্থানীয় সময় ৮ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে মোহাজেরানি বলেন, বিশেষজ্ঞদের বৈঠকে বিভিন্ন দামের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কারণে শেষ পর্যন্ত প্রতি লিটারে ১০ হাজার তোমান দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পেট্রোলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে।

ইরান বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ এবং দেশটিতে জ্বালানির দামও বিশ্বের সবচেয়ে কমগুলোর একটি। সরকার বহু বছর ধরে পেট্রোলে বড় ধরনের ভর্তুকি দিয়ে আসছে। ফলে জ্বালানির দাম বাড়ানোর বিষয়টি দেশটিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজনৈতিক ইস্যু।

পেট্রোলের দাম বাড়ানোর এই ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন রোববার কালোবাজারে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের দাম প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ২২ লাখেরও বেশি রিয়ালে লেনদেন হচ্ছিল। বিনিময় হার পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর আগে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের বিনিময় হার ছিল প্রায় ১৭ লাখ রিয়াল। এরপর এপ্রিলের শেষ দিকে রিয়ালের দর আরও কমে প্রতি ডলারে ১৮ লাখ রিয়ালে নেমে যায়, যা তখন পর্যন্ত রিয়ালের সর্বনিম্ন রেকর্ড দর ছিল।

এরই মধ্যে গত মাসের শেষ দিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের ওপর ‘অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ’ নীতি প্রয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান।
যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে ইরানের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ানোই এই পরিকল্পনার লক্ষ্য বলে তিনি জানান।

নতুন পদক্ষেপগুলো ২০১৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের চালু থাকা নিষেধাজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হচ্ছে। ওই বছর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে করা আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতেও নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। এর মাধ্যমে ইরানের তেল রপ্তানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category