ডিমলায় তিস্তায় যৌথ টাস্কফোর্সের অভিযান: ২৫ হাজার ঘনফুট পাথর ও ৫ ক্রাশার মেশিন জব্দ, ট্রাক আটক
মোঃ বাদশা প্রামানিক
/ ৬
Time View
Update :
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
Share
নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন, মজুদ ও বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের যৌথ টাস্কফোর্স। অভিযানে ৭টি অবৈধ পাথর মজুদের সাইট থেকে আনুমানিক ২৫ হাজার ঘনফুট পাথর, ৫টি ক্রাশার মেশিন এবং প্রায় ৪০০ ঘনফুট পাথরবোঝাই একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ৭টি সাইটে মজুদ করা আনুমানিক ২৫ হাজার ঘনফুট পাথর।পাথর ভাঙার কাজে ব্যবহৃত ৫টি অবৈধ ক্রাশার মেশিন।
প্রায় ৪০০ ঘনফুট পাথরসহ ১টি ট্রাক, যা বর্তমানে ডিমলা থানার হেফাজতে রয়েছে।অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২২ সদস্যের বিজিবি দল ও পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে পাথর তুলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় মজুদ করে আসছিল। পরবর্তীতে এসব পাথর ক্রাশার মেশিনের মাধ্যমে ভেঙে বিভিন্ন আকারে প্রক্রিয়াজাত করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ ও বাজারজাত করা হতো।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, এভাবে অনিয়ন্ত্রিত পাথর উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং তীরবর্তী পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধ্বংসের মুখে পড়ছে।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান জানান, তিস্তা নদী রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নদী ও পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো চক্র অবৈধ কার্যকলাপে জড়ালে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। জব্দ করা পাথরের সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করে পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, আটক ট্রাকটি থানা হেফাজতে রয়েছে এবং এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তবে তারা মনে করেন, কেবল একদিনের অভিযানে সীমাবদ্ধ না থেকে তিস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি। এতে নদীর প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত থাকবে।