
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বঙ্গোপসাগরের দিক থেকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, যার নামকরণ করা হয়েছে ‘অশনি’। বছরের এ সময় এমন ঝড় দু’চারটা জন্ম থেকেই দেখে আসছে সাগরকূলের মানুষ। তাই বলে নদী সাগরে মাছ ধরা, ক্ষেত-খামারে কাজ করা কি বন্ধ রাখা সম্ভব? মোটেই না! দক্ষিণ বাংলার মানুষের কাছে ঝড়-ঝঞ্জা গাঁ সওয়া হয়ে গেছে। সিডর, আইলা মোকাবেলা করে যেনো আরো সাহসী হয়ে উঠেছে বরগুনার মানুষ। তবে এবছর বরগুনার অধিকাংশ চাষী তাদের জমিতে তরমুজ চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এবং ইতিমধ্যেই অধিকাংশ ফলন ঘরে তুলেছেন এমনকি বাজারজাতও করে ফেলেছেন। কিছু কিছু চাষীর অংশিক ফলন খেতে থাকলেও তাদের মূল চালান পকেটস্থ হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছে বরগুনার চাষিরা।
সদর উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে জানা যায়, এ উপজেলায় আবাদি জমির পরিমান মোট ২৫ হাজার ৮৩৪ হেক্টর। তার মধ্যে বোরো ধানের ফলন হয়েছে ২ হাজার ৭৩০ হেক্টরে, ধান কাটা চলছে। মাত্র শতকরা ১৫ ভাগ ধান চাষিরা ঘরে তুলেছে। ঘূর্ণিঝড় অশনির খবরে ধান চাষীরা তুলনামূলক বেশি চিন্তিত। তরমুজ ফলেছে ৭ হাজার ২০০ হেক্টরে তার শতকরা ৫০ ভাগ ঘরে তোলা হয়েছে। তাছাড়া শীতকালীন ফসল ৮ হাজার হেক্টর জমির মুগডালের ৩০ ভাগ কৃষকের ঘরে এসেছে। তবে খেসারী ডাল ৪ হাজার হেক্টরের শতভাগই কাটা শেষ হয়েছে। মসুর, ছোলা, ধনিয়া, সরিষা, আলু, গম, খিরাই, মরমা জাতীয় ফলন শতভাগই ঘরে তুলেছে চাষিরা। সূর্যমুখীর ফলন হয়েছে ৬৫০ হেক্টর জমিতে এর ৫০ ভাগ কর্তন এখনো বাকি।
উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান আমাদের সময়কে জানান, অশনির ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য, সার্বক্ষণিক চাষিদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছি এবং সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে দ্রুত ফলন ঘরে তোলার পরামর্শ দিচ্ছি।
অনলাইন ডেস্ক 






















