
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিব চতুর্দশী মেলা-২০২৩ অনুষ্ঠিত হয়,ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দুদের অন্যতম তীর্থস্থান সীতাকুন্ড। প্রায় দেড়`শ বছরের পুরনো শিবচতুর্দশী মেলার ইতিহাসে এই প্রথম ৩০ লক্ষ মানুষের সমাগম হয় এবং উৎসব মুখর পরিবেশে শান্তিপ্রিয় মেলা অনুষ্ঠিত হয়। সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধামে শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে প্রাচীনতম ধর্মীয় উৎসব শিবচতুর্দশী মেলা।গত শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে শুরু হয়ে সীতাকুণ্ড পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থিত চন্দ্রনাথ মন্দিরকে ঘিরে তিন দিনব্যাপী শিবচতুর্দশী মেলা চলে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কথিত রয়েছে একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ পৃথিবীর সব তীর্থস্থান দর্শন করলেও অন্তত একবার যদি সীতাকুণ্ড তীর্থভূমি দর্শন না করে তাহলে তার তীর্থ দর্শন সম্পূর্ণ হয় না। মেলায় প্রতি বছরের মতো এবারও ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাধু-সন্ন্যাসী ও দর্শনার্থীদের আগমন ঘটেছে। কয়েকশ বছরের প্রাচীন এই মেলাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর লাখ লাখ ভক্তের আগমন ঘটে এখানে। আয়োজকেরা জানান, সারা বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চন্দ্রনাথ ধাম একটি পুণ্যতীর্থ পীঠ। আনুমানিক ৩০০ বছর আগের ফাল্গুন মাসের শিবচতুর্দশী তিথিতে (শিবরাত্রি) চন্দ্রনাথ ধামকে ঘিরে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী শিবচতুর্দশী মেলা। তখন থেকে এ মেলাকে ঘিরে দেশ-বিদেশের লাখো পুণ্যার্থী সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় এক হাজার ২০০ ফুট ওপরের পথ হেটে কলিযুগের মহাতীর্থ খ্যাত এ চন্দ্রনাথ ধাম দর্শনের পাশাপাশি শিবরাত্রিতে দেবাদিদেব মহাদেবের পূজা-অর্চনা করেন। সীতাকুন্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) তোফায়েল আহমেদ,একুশে সংবাদ কে বলেন, মেলার ইতিহাসে এই ১ম ৩০ লক্ষ দর্শনার্থীর সমাগমে হয়েছে, দর্শনার্থীরদের নিরাপত্তার রক্ষায় প্রশাসনও যতেষ্ট তৎপর ছিলো,এবারের মেলাতে খুন,দর্ষণ,চুরি মত কোন ঘটনা ঘটে নাই, মেলাকে ঘিরে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার ভিডিপি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা মেলা চলাকালে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সব রকম নিরাপত্তা আমরা দিয়েছি,মেলায় কোন ধরনের প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতি হয় নাই,তিনি আরও বলেন সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ ভাবে মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে,তার জন্য মেলা কমিটি ও স্থানিয় জনসাধারণেকে প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেন।
মোঃ আমজাদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি, (সীতাকুণ্ড) চট্টগ্রাম। 



















