
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের বিভিন্ন জাতীয় সংকটে বারবার সমাধানমূলক নেতৃত্ব দিয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, গণতান্ত্রিক ধারা ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই রাজনীতি পরিচালনা করেছে।
তিনি জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আজকের সংসদই তার প্রমাণ যে বিএনপি সবসময় যুক্তিতর্ক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনীতি পরিচালনা করেছে।” তিনি দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপি বিভিন্ন সংকট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক পথেই সমাধান খুঁজবে।
বর্তমান সংসদকে অতীতের তুলনায় বেশি বৈচিত্র্যময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোটের আচরণ ও রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৯৭৫, ১৯৮২ এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, পরবর্তীতে খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় সংকট মোকাবেলায় ভূমিকা রেখেছে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিয়েছে যখন দেশের ওপর প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের চাপ রয়েছে। তবে সরকার ইতোমধ্যে এই সংকট মোকাবেলায় কাজ শুরু করেছে।
তিনি জানান, শেয়ারবাজারে দৈনিক লেনদেন প্রায় ৫০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে।
বিশ্ব পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালীর সংকট জ্বালানি আমদানিতে প্রভাব ফেলছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করছে। এসব বিষয়ে সংসদে জাতীয় ঐক্যমত তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে সংসদকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন। পাশাপাশি আগামী বাজেটে প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকার প্রস্তাবনা আসতে পারে, যা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
তথ্যমন্ত্রী বিরোধী দল ও ১১ দলীয় জোটের প্রতি গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় উন্নয়নে ঐক্য অপরিহার্য এবং সংসদের ভেতরে থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস ও আদর্শিক অবস্থান তাদের আচরণে প্রভাব ফেলে এবং দেশে বিদ্যমান আদর্শিক বিতর্কের মূল কারণও এই পার্থক্য।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ধর্ম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা আন্দোলনের ইতিহাসকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব বিষয় রাজনৈতিক আচরণে প্রভাব ফেলছে।
শেষে তিনি রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের প্রশংসা করেন এবং সংসদ পরিচালনার জন্য স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান।
দৈনিক একুশে সংবাদ বিডি 


















