ঢাজা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তর চট্টগ্রামে ভোটের চিত্র

  • চট্টগ্রাম ডেস্ক
  • সপ্রকাশিত হয়েছে: ০২:২২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪৯ শেয়ার

ঘনিয়ে এসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও চলছে শেষ মুহূর্তে জমজমাট প্রচারণা। একদিকে নির্বাচনে মাঠে নেই আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত। তারা একসময় ছিলো ঘনিষ্ঠ মিত্র। যে কারণে এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ভোটের হিসাবনিকাশ আসন্ন নির্বাচনে পাল্টে যাচ্ছে। ভোটের মাঠ যাচাই-বাছাইসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিকাংশ আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি কওমি ও সুন্নি আকিদার ভোট ব্যাংক এখানকার নির্বাচনে বড় একটি ফ্যাক্টর। একসময়কার বিএনপির দূর্গ বলে পরিচিত এ অঞ্চলে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে প্রবাসী ও শিক্ষিত তরুণ প্রজম্মের ভোটাররা বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

এই অঞ্চলে চট্টগ্রাম জেলায় আছে ১৬টি সংসদীয় আসন। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩টি ও কক্সবাজারে আছে ৪টি সংসদীয় আসন। অতীতের নির্বাচনে বৃহত্তর চট্টগ্রামের এই ২৩টির মধ্যে অধিকাংশ আসনে জয় পেয়েছিল বিএনপি। তবে বর্তমান বাস্তবতায় অধিকাংশ আসনেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এরমধ্যে কট্টর জামায়াত বিরোধী বলে পরিচিত সুন্নিদের (খানকা ও মাজারপন্থী) ৩টি রাজনৈতিক দল জোট করে নির্বাচন করায় চ্যালেঞ্জিং হবে হিসাব-নিকাশ। এছাড়া দক্ষিণ চট্টগ্রামের দুইটি আসনে শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থীও রয়েছেন।

এদিকে প্রবাসী ও তাদের পরিবারেরও ভোটও একটি ফ্যাক্টর। চট্টগ্রামের একাধিক আসনে এগিয়ে আছে বিএনপি। সেগুলো হলো—রাউজান, হাটহাজারী, সীতাকুণ্ড, বন্দর-পতেঙ্গা, পটিয়া, বোয়ালখালী- পাঁচলাইশ, কক্সবাজার সদর, রাঙামাটি ও বান্দরবান আসন। আসনগুলোতে বিএনপি সহজ জয় পাচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

সংখ্যালঘু ও সুন্নি সম্প্রদায়ের ভোট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর কমিটির সাবেক সেক্রেটারি আবুল হাশেম বক্কর মানবজমিনকে বলেন, ‘আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছি। এই কাজের রেজাল্ট ইনশাআল্লাহ এই নির্বাচনে পাবো। আর সুন্নি প্রার্থীদের কথা বলছেন তো! তারা প্রতিবারই দাঁড়ায়। কী ফলাফল করে সেটা তো আপনারা জানেন। দলগুলোর নেতাকর্মীরা হয়তো তাদের ওই প্রার্থীকে ভোট দেবেন। তবে সাধারণ সুন্নিরা এবার ভোট দেবেন ধানের শীষে। তারা জানেন ওই প্রার্থীকে (সুন্নি জোট) ভোট দেওয়া মানে ভোটটি পচে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই নই।’

চট্টগ্রামেও আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত প্রচারণায় ভালো এগিয়ে আছে। তাদের এগিয়ে থাকা আসনগুলো হলো সাতকানিয়া-লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, মিরসরাই, কুতুবদিয়া-মহেশখালী,উখিয়া-টেকনাফ, হালিশহর-পাঁচলাইশ। কিছু এলাকায় জামায়াতের রিজার্ভ ভোট থাকলেও সংসদ নির্বাচনে এই অঞ্চলে ভালো করার রেকর্ড নেই জামায়াতের।

সাতকানিয়া-লোহাগাড়া, চকরিয়া, কুতুবদিয়া-মহেশখালী ও বান্দরবান ছাড়া কোনো আসনেই জামায়াত কখনও জয়ের মুখ দেখেনি। এখানে তাদের পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হলো এলাকার বিশাল হিন্দু ভোটব্যাংক। সংখ্যালঘু সম্প্রাদায়ের এই ভোটগুলো আগে আওয়ামী লীগের কাছে যেতো। তবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় এই ভোটগুলোর অধিকাংশই এবার যাবে বিএনপির বক্সে। সরজমিনে গিয়ে এমন আভাসই পাওয়া গেছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাচন পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘দেশের মানুষ এবার পরিবর্তন চায়। তারা ইনসাফ ও সুশাসন চাচ্ছে। যে কারণে শুধু মুসলমানরা নয়, চট্টগ্রামের হিন্দু ও বৌদ্ধসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষজন এখন দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে আপন করে নিয়েছেন।’

চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম -১ ( মিরসরাই) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন। সেখানে জামায়াতের প্রার্থী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ছাইফুর রহমান। এখানে দুই পক্ষের মধ্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তবে বহু বিভক্ত উপজেলা বিএনপির কারণে জামায়াতের ছাইফুর রহমান সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর। ঋণখেলাপের অভিযোগে কিছুটা বেকায়দায় থাকলেও ধানের শীষের রিজার্ভ ভোট ব্যাংক এগিয়ে দিয়েছে তাকে। এছাড়া হেফাজত আমীর মাওলানা মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর ব্যক্তিগত আশীর্বাদ আছে সরওয়ার আলমগীরের প্রতি। আসনটিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাঠে আছেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন। আসনটিতে বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারি। তারও আছে ছোট রিজার্ভ ভোটব্যাংক। আসনটিতে হাতপাখা প্রতীকের জুলফিকার আলীসহ মোট ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এক সময়ের সন্ত্রাসের জনপদ বলে পরিচিত এই আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই জমজমাট লড়াই হবে এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কারণে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি মোস্তফা কামাল পাশা এখানে সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর আলাউদ্দিন শিকদারেরও আসনটিতে আছে শক্ত অবস্থান।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগর আংশিক) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী লায়ন মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এই প্রভাবশালী নেতার এই আসনসহ উত্তর চট্টগ্রামে আছে শক্তিশালী অবস্থান। আসনটিতে জামায়াত জোটের হয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন আনোয়ার সিদ্দিকী। এখানে মোট ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আসলাম চৌধুরী ও আনোয়ার সিদ্দিকীর মধ্যে। তবে কার্যত আসনটিতে ধানের শীষের আসলাম চৌধুরী এগিয়ে আছেন।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ) আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সেখানে ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের সঙ্গে জামায়াত জোটের খেলাফত মজলিসের মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনিরের রিকশা মার্কার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সার্বিক বিবেচনায় সেখানে বেশ এগিয়ে আছেন মীর হেলাল।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান)আসনে ধানের শীষের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান মঞ্জুর মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সন্ত্রাস কবলিত এই জনপদের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেশ এগিয়ে আছেন গিয়াস কাদের।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে আটজন প্রার্থী। তবে এখানে ধানের শীষের প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর সঙ্গে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিমের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। আসনটিতে শুরুতে হুম্মাম কাদের বেশ এগিয়ে থাকলেও বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইকবাল হাসানের জোরালো প্রচারণাও রয়েছে এখানে।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। আসনটিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন জামায়াতের প্রার্থী ডা. মো. আবু নাছের। তবে শেষ মুহূর্তে এসে এই আসনটি ছেড়ে দেয়া হয় এলাকায় নবাগত এনসিপির প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে। যে কারণে এরশাদ উল্লাহ’র জয়লাভ অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। তবে দলীয় সমর্থন উঠিয়ে নিলেও মাঠে কাজ করছেন দাঁড়িপাল্লার আবু নাসের।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের চিকিৎসক নেতা ডা. এ কে এম ফজলুল হকে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটে এগিয়ে থাকবেন আবু সুফিয়ান। আর রিজার্ভ ভোট ও শিবিরের শক্ত অবস্থান টেনে আনতে পারে ডা. ফজলুল হককে।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর-পাহাড়তলী) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাঈদ আল নোমান। আর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী চসিকের সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালীর মধ্যেই মূলত মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে আব্দুল্লাহ আল নোমানের প্রভাব রয়েছে অনেক।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী চসিকের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিউল আলমের। আসনটিতে এগিয়ে আছেন আমীর খসরু।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ধানের শীষের এনামুল হকের সঙ্গে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার ডা. ফরিদুল আলমের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে সেখানে বেশ ব্যবধানে এগিয়ে থাকবেন ধানের শীষের প্রার্থী এনাম।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-চন্দনাইশ) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি সরোয়ার জামাল নিজামের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে এই নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে সুন্নি জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহান। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একটি অংশের তিনি সহযোগিতা পাবেন এমনটাই বলাবলি আছে। শেষ পর্যন্ত এই ৩ প্রার্থীর মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার আভাস মিলেছে।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন। সেখানে বিএনপির দুই নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। আসনটিতে জামায়াত জোটের প্রার্থী হয়েছেন এমডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের ছেলে ড. ওমর ফারুক। সেখানে সুন্নী জোটের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থীরও ভালো অবস্থান আছে।

চট্টগ্রাম -১৫ ( সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী। আসনটিতে বিএনপি জোটের প্রার্থী নাজমুল মোস্তাফা। জামায়াতের দূর্গ বলে পরিচিত এই আসনে শাহজাহান চৌধুরী সহজেই জয় পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-১৬ আসনে ১১ দলীয় জোট থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম। আসনটিতে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে লড়ছেন মিশকাতুল আলম পাপ্পা। এই আসনে ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী লিয়াকতের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার জহিরুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে।

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি আসনের মধ্যে রাঙামাটিতে বিএনপি প্রার্থী দীপেন দেওয়ানের সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

খাগড়াছড়ি আসনে দুই নারী প্রার্থীসহ মোট ১১ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভুঁঞার সঙ্গে জামায়াতের অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। বান্দরবান আসনে বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরির সাথে ১১ দলীয় জোটের এনসিপি প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজা উদ্দীনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। আসনটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন। তবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরির সহজ জয়ের সম্ভাবনা আছে।

বিএনপির এক সময়ের দূর্গ বলে পরিচিত কক্সবাজারের ৪ টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে তীব্র লড়াই হবে। এরমধ্যে কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী) ও কক্সবাজার ৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে বিভিন্ন ক্যালকুলেশনে এগিয়ে আছে জামায়াতের প্রার্থী যথাক্রমে সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আজাদ ও জেলা আমীর মাওকানা নুর মোহাম্মদ আনোয়ারী। এমনকি বিএনপির হেভিওয়েট নেতা স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন জামায়াতের তরুণ নেতা আব্দুল্লাহ আল ফারুক। তবে শেষ বিচারে সালাউদ্দিন আহমেদই জয় পাবেন সরজমিনে তাই জানা গেল।

কক্সবাজার ৩ (সদর-রামু) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী লুতফুর রহমান কাজলের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বাহাদুর। এছাড়া কক্সবাজার -২ আসনে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জিয়াউর রহমানেরও কিছু ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালীতে কন্টেইনার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ইঞ্জিন রুমে ভয়াবহ আগুন

সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তর চট্টগ্রামে ভোটের চিত্র

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০২:২২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঘনিয়ে এসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও চলছে শেষ মুহূর্তে জমজমাট প্রচারণা। একদিকে নির্বাচনে মাঠে নেই আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত। তারা একসময় ছিলো ঘনিষ্ঠ মিত্র। যে কারণে এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ভোটের হিসাবনিকাশ আসন্ন নির্বাচনে পাল্টে যাচ্ছে। ভোটের মাঠ যাচাই-বাছাইসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিকাংশ আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি কওমি ও সুন্নি আকিদার ভোট ব্যাংক এখানকার নির্বাচনে বড় একটি ফ্যাক্টর। একসময়কার বিএনপির দূর্গ বলে পরিচিত এ অঞ্চলে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে প্রবাসী ও শিক্ষিত তরুণ প্রজম্মের ভোটাররা বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

এই অঞ্চলে চট্টগ্রাম জেলায় আছে ১৬টি সংসদীয় আসন। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩টি ও কক্সবাজারে আছে ৪টি সংসদীয় আসন। অতীতের নির্বাচনে বৃহত্তর চট্টগ্রামের এই ২৩টির মধ্যে অধিকাংশ আসনে জয় পেয়েছিল বিএনপি। তবে বর্তমান বাস্তবতায় অধিকাংশ আসনেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এরমধ্যে কট্টর জামায়াত বিরোধী বলে পরিচিত সুন্নিদের (খানকা ও মাজারপন্থী) ৩টি রাজনৈতিক দল জোট করে নির্বাচন করায় চ্যালেঞ্জিং হবে হিসাব-নিকাশ। এছাড়া দক্ষিণ চট্টগ্রামের দুইটি আসনে শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থীও রয়েছেন।

এদিকে প্রবাসী ও তাদের পরিবারেরও ভোটও একটি ফ্যাক্টর। চট্টগ্রামের একাধিক আসনে এগিয়ে আছে বিএনপি। সেগুলো হলো—রাউজান, হাটহাজারী, সীতাকুণ্ড, বন্দর-পতেঙ্গা, পটিয়া, বোয়ালখালী- পাঁচলাইশ, কক্সবাজার সদর, রাঙামাটি ও বান্দরবান আসন। আসনগুলোতে বিএনপি সহজ জয় পাচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

সংখ্যালঘু ও সুন্নি সম্প্রদায়ের ভোট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর কমিটির সাবেক সেক্রেটারি আবুল হাশেম বক্কর মানবজমিনকে বলেন, ‘আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছি। এই কাজের রেজাল্ট ইনশাআল্লাহ এই নির্বাচনে পাবো। আর সুন্নি প্রার্থীদের কথা বলছেন তো! তারা প্রতিবারই দাঁড়ায়। কী ফলাফল করে সেটা তো আপনারা জানেন। দলগুলোর নেতাকর্মীরা হয়তো তাদের ওই প্রার্থীকে ভোট দেবেন। তবে সাধারণ সুন্নিরা এবার ভোট দেবেন ধানের শীষে। তারা জানেন ওই প্রার্থীকে (সুন্নি জোট) ভোট দেওয়া মানে ভোটটি পচে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই নই।’

চট্টগ্রামেও আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত প্রচারণায় ভালো এগিয়ে আছে। তাদের এগিয়ে থাকা আসনগুলো হলো সাতকানিয়া-লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, মিরসরাই, কুতুবদিয়া-মহেশখালী,উখিয়া-টেকনাফ, হালিশহর-পাঁচলাইশ। কিছু এলাকায় জামায়াতের রিজার্ভ ভোট থাকলেও সংসদ নির্বাচনে এই অঞ্চলে ভালো করার রেকর্ড নেই জামায়াতের।

সাতকানিয়া-লোহাগাড়া, চকরিয়া, কুতুবদিয়া-মহেশখালী ও বান্দরবান ছাড়া কোনো আসনেই জামায়াত কখনও জয়ের মুখ দেখেনি। এখানে তাদের পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হলো এলাকার বিশাল হিন্দু ভোটব্যাংক। সংখ্যালঘু সম্প্রাদায়ের এই ভোটগুলো আগে আওয়ামী লীগের কাছে যেতো। তবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় এই ভোটগুলোর অধিকাংশই এবার যাবে বিএনপির বক্সে। সরজমিনে গিয়ে এমন আভাসই পাওয়া গেছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাচন পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘দেশের মানুষ এবার পরিবর্তন চায়। তারা ইনসাফ ও সুশাসন চাচ্ছে। যে কারণে শুধু মুসলমানরা নয়, চট্টগ্রামের হিন্দু ও বৌদ্ধসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষজন এখন দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে আপন করে নিয়েছেন।’

চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম -১ ( মিরসরাই) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন। সেখানে জামায়াতের প্রার্থী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ছাইফুর রহমান। এখানে দুই পক্ষের মধ্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তবে বহু বিভক্ত উপজেলা বিএনপির কারণে জামায়াতের ছাইফুর রহমান সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর। ঋণখেলাপের অভিযোগে কিছুটা বেকায়দায় থাকলেও ধানের শীষের রিজার্ভ ভোট ব্যাংক এগিয়ে দিয়েছে তাকে। এছাড়া হেফাজত আমীর মাওলানা মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর ব্যক্তিগত আশীর্বাদ আছে সরওয়ার আলমগীরের প্রতি। আসনটিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাঠে আছেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন। আসনটিতে বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারি। তারও আছে ছোট রিজার্ভ ভোটব্যাংক। আসনটিতে হাতপাখা প্রতীকের জুলফিকার আলীসহ মোট ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এক সময়ের সন্ত্রাসের জনপদ বলে পরিচিত এই আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই জমজমাট লড়াই হবে এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কারণে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি মোস্তফা কামাল পাশা এখানে সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর আলাউদ্দিন শিকদারেরও আসনটিতে আছে শক্ত অবস্থান।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগর আংশিক) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী লায়ন মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এই প্রভাবশালী নেতার এই আসনসহ উত্তর চট্টগ্রামে আছে শক্তিশালী অবস্থান। আসনটিতে জামায়াত জোটের হয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন আনোয়ার সিদ্দিকী। এখানে মোট ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আসলাম চৌধুরী ও আনোয়ার সিদ্দিকীর মধ্যে। তবে কার্যত আসনটিতে ধানের শীষের আসলাম চৌধুরী এগিয়ে আছেন।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ) আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সেখানে ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের সঙ্গে জামায়াত জোটের খেলাফত মজলিসের মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনিরের রিকশা মার্কার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সার্বিক বিবেচনায় সেখানে বেশ এগিয়ে আছেন মীর হেলাল।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান)আসনে ধানের শীষের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান মঞ্জুর মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সন্ত্রাস কবলিত এই জনপদের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেশ এগিয়ে আছেন গিয়াস কাদের।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে আটজন প্রার্থী। তবে এখানে ধানের শীষের প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর সঙ্গে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিমের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। আসনটিতে শুরুতে হুম্মাম কাদের বেশ এগিয়ে থাকলেও বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইকবাল হাসানের জোরালো প্রচারণাও রয়েছে এখানে।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। আসনটিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন জামায়াতের প্রার্থী ডা. মো. আবু নাছের। তবে শেষ মুহূর্তে এসে এই আসনটি ছেড়ে দেয়া হয় এলাকায় নবাগত এনসিপির প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে। যে কারণে এরশাদ উল্লাহ’র জয়লাভ অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। তবে দলীয় সমর্থন উঠিয়ে নিলেও মাঠে কাজ করছেন দাঁড়িপাল্লার আবু নাসের।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের চিকিৎসক নেতা ডা. এ কে এম ফজলুল হকে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটে এগিয়ে থাকবেন আবু সুফিয়ান। আর রিজার্ভ ভোট ও শিবিরের শক্ত অবস্থান টেনে আনতে পারে ডা. ফজলুল হককে।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর-পাহাড়তলী) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাঈদ আল নোমান। আর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী চসিকের সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালীর মধ্যেই মূলত মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে আব্দুল্লাহ আল নোমানের প্রভাব রয়েছে অনেক।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী চসিকের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিউল আলমের। আসনটিতে এগিয়ে আছেন আমীর খসরু।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ধানের শীষের এনামুল হকের সঙ্গে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার ডা. ফরিদুল আলমের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে সেখানে বেশ ব্যবধানে এগিয়ে থাকবেন ধানের শীষের প্রার্থী এনাম।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-চন্দনাইশ) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি সরোয়ার জামাল নিজামের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে এই নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে সুন্নি জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহান। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একটি অংশের তিনি সহযোগিতা পাবেন এমনটাই বলাবলি আছে। শেষ পর্যন্ত এই ৩ প্রার্থীর মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার আভাস মিলেছে।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন। সেখানে বিএনপির দুই নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। আসনটিতে জামায়াত জোটের প্রার্থী হয়েছেন এমডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের ছেলে ড. ওমর ফারুক। সেখানে সুন্নী জোটের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থীরও ভালো অবস্থান আছে।

চট্টগ্রাম -১৫ ( সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী। আসনটিতে বিএনপি জোটের প্রার্থী নাজমুল মোস্তাফা। জামায়াতের দূর্গ বলে পরিচিত এই আসনে শাহজাহান চৌধুরী সহজেই জয় পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-১৬ আসনে ১১ দলীয় জোট থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম। আসনটিতে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে লড়ছেন মিশকাতুল আলম পাপ্পা। এই আসনে ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী লিয়াকতের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার জহিরুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে।

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি আসনের মধ্যে রাঙামাটিতে বিএনপি প্রার্থী দীপেন দেওয়ানের সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

খাগড়াছড়ি আসনে দুই নারী প্রার্থীসহ মোট ১১ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভুঁঞার সঙ্গে জামায়াতের অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। বান্দরবান আসনে বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরির সাথে ১১ দলীয় জোটের এনসিপি প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজা উদ্দীনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। আসনটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন। তবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরির সহজ জয়ের সম্ভাবনা আছে।

বিএনপির এক সময়ের দূর্গ বলে পরিচিত কক্সবাজারের ৪ টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে তীব্র লড়াই হবে। এরমধ্যে কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী) ও কক্সবাজার ৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে বিভিন্ন ক্যালকুলেশনে এগিয়ে আছে জামায়াতের প্রার্থী যথাক্রমে সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আজাদ ও জেলা আমীর মাওকানা নুর মোহাম্মদ আনোয়ারী। এমনকি বিএনপির হেভিওয়েট নেতা স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন জামায়াতের তরুণ নেতা আব্দুল্লাহ আল ফারুক। তবে শেষ বিচারে সালাউদ্দিন আহমেদই জয় পাবেন সরজমিনে তাই জানা গেল।

কক্সবাজার ৩ (সদর-রামু) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী লুতফুর রহমান কাজলের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বাহাদুর। এছাড়া কক্সবাজার -২ আসনে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জিয়াউর রহমানেরও কিছু ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।