• বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ন
Headline
অনিশ্চয়তা বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে  বিসিবি নির্বাচনের জন্য ৩ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন :  (বিসিবি) পরিচালনা বিশ্বজয়ের স্বপ্নে বিভোর কারাতে কন্যা তারকা মাইশা জেবিন বাজিতপুর পৌরসভার- মিরারবন্দে ২৫ বছর ধরে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা চীনের আহ্বান : ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা জোরদারে পাকিস্তানের প্রতি  সোনিয়া গান্ধী হাসপাতালে ভর্তি গোপনে ইরানে পাল্টা একাধিক গোপন বিমান হামলা চালিয়েছে  আজ বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত হচ্ছে  কিশোরগঞ্জের গর্ব মির্জা আব্বাস: হোসেনপুরের সন্তান, ঢাকার মানুষের প্রিয় মুখ প্রবাসীর মৃত্যু, শেষ ঠিকানা সৌদি আরবেই — টাকার কাছে হার মানলো ভালোবাসা!

 চলতি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে ঘূর্ণিঝড় ও তীব্র কালবৈশাখীর শঙ্কা

আবহাওয়া অধিদপ্তর ডেস্ক. / ৫৮ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

চলতি মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ বাসস’কে জানান, মাসের ১৫ তারিখের পর বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

একই সঙ্গে মে মাসে দেশে ৫ থেকে ৮ দিন কালবৈশাখী ও বজ্রঝড় এবং ১ থেকে ৩ দফা তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

ঢাকার ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সাম্প্রতিক এক সভার বরাত দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম জানান, মে মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।

বিভাগভিত্তিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেখানে ৫২০ থেকে ৫৪০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৪০ থেকে ৩৬০ মিলিমিটার, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৩০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার, রংপুর বিভাগে ২৬০ থেকে ২৮০ মিলিমিটার এবং ঢাকা বিভাগে ২৫০ থেকে ২৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।

বরিশাল বিভাগে ২২০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার, রাজশাহী বিভাগে ১৭০ থেকে ১৯০ মিলিমিটার এবং খুলনা বিভাগে ১৬০ থেকে ১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, এ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে ৫ থেকে ৮ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কালবৈশাখী ও বজ্রঝড় হতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখীর আশঙ্কা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।

এ মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক থাকতে পারে। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১ থেকে ৩ দফা মৃদু অথবা মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে একটি তীব্র তাপপ্রবাহে রূপ নিতে পারে। ওই সময় তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।

নদ-নদীর পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাসে বলা হয়, মে মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকতে পারে। তবে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু সময়ের জন্য নদীর পানি সমতল বাড়তে পারে।

কৃষি আবহাওয়া সম্পর্কিত পূর্বাভাসে বলা হয়, মে মাসে দেশের দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ৩.৫ থেকে ৫.৫ মিলিমিটার এবং গড় সূর্যকিরণকাল সাড়ে ৫ ঘণ্টা থেকে সাড়ে ৭ ঘণ্টা থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বৃষ্টিপাত ও মাটির আর্দ্রতার বর্তমান পরিস্থিতি চলতি মৌসুমের কৃষিকাজের জন্য সহায়ক হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে সারাদেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭৫.৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রায় সব বিভাগেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে রাজশাহী বিভাগে বৃষ্টিপাত ছিল প্রায় স্বাভাবিক।

সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের বিচ্যুতি দেখা গেছে বরিশাল বিভাগে। সেখানে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৬৯.৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫০.৯ শতাংশ এবং সিলেট বিভাগে ১০৪.৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

ঢাকা বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ছিল ১১৯ মিলিমিটার। সেখানে রেকর্ড করা হয়েছে ২১৩ মিলিমিটার বৃষ্টি। সিলেটে স্বাভাবিক ২৯৫ মিলিমিটারের বিপরীতে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬০৩ মিলিমিটার।

আবহাওয়াবিদরা জানান, পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূবালী বায়ুপ্রবাহের সংযোগের কারণে এপ্রিলের বিভিন্ন সময়ে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিশেষ করে ৬ থেকে ৯ এপ্রিল এবং ২৬ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বৃষ্টি, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া বয়ে যায়। অনেক এলাকায় শিলাবৃষ্টিও হয়েছে।

এ সময় দেশের সর্বোচ্চ একদিনের বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় কিশোরগঞ্জের নিকলীতে। গত ২৮ এপ্রিল সেখানে ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

বৃষ্টির পাশাপাশি এপ্রিল মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দফা তাপপ্রবাহও বয়ে গেছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে তাপীয় লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় ১ থেকে ৪ এপ্রিল, ১২ থেকে ১৫ এপ্রিল, ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল এবং ২০ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ দেখা দেয়।

এপ্রিল মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রাজশাহীতে। গত ২২ এপ্রিল সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রাঙ্গামাটিতে, ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা