নিজস্ব প্রতিবেদক
পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ সংশোধন করে শাস্তির মেয়াদ, জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধানে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রবীণ, বিধবা, স্বামী-নিগৃহীতা নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার পরিমাণ এবং উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সরকার।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাজমুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) মতামতের ভিত্তিতে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত আইনে শাস্তির মেয়াদ, জরিমানা এবং কারাদণ্ডের বিধান যুগোপযোগী করা হবে।
নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনা ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। প্রকৃত অসচ্ছল ও যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত এবং অযোগ্য সুবিধাভোগীদের বাদ দিতে দেশব্যাপী শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ১৯ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে ভাতাভোগীদের তালিকা পুনর্যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির ফলে দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও বাড়ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬১ লাখ প্রবীণ মাসিক ৬৫০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন, যার জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৪ হাজার ৭৯১ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবীণ ভাতার উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৬২ লাখ এবং মাসিক ভাতার পরিমাণ ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরে ৩০ লাখ বিধবা ও স্বামী-নিগৃহীতা নারীকে মাসিক ৭০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য ২ হাজার ৫৩৫ কোটি ১২ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ২৯ লাখ নারী মাসে ৬৫০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন।
এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে ৩৮ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে মাসিক ১ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে তারা ৯০০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। এ খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৫৮৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, দেশের ৪৪ জেলার ৫৫ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশন এলাকায় পাইলট প্রকল্পের আওতায় তিন ধাপে ৬৯ হাজার ৩৮৭টি নারী-প্রধান পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ কর্মসূচির আওতায় আরও পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।