কিন্তু সেই সন্তানরাই বড় হয়ে নিজেদের জীবন গুছিয়ে নিলেও অসহায় বাবা-মায়ের জন্য নাকি হয়নি কোনো ঠাঁই।
এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা উঠে এসেছে বরগুনার তালতলী উপজেলার বড় ভাইজোড়া গ্রামের এক অসহায় দম্পতিকে ঘিরে।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, ওই বাবা-মায়ের ১০ সন্তানই এখন নিজ নিজ পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। সন্তানদের কারও কারও বাড়ি বহুতল ভবন হলেও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের থাকার মতো জায়গা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
জীবনের শেষ সময়ে এসে সেই বাবা-মায়ের আশ্রয় হয়েছে একটি গাছতলায়। অসুস্থ মা ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। বয়সের ভারে ন্যুব্জ বাবা কোনোভাবে দিন পার করছেন। যে জমি ও ঘর নিয়ে একসময় সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই ঘরেও নাকি আজ তাঁদের জায়গা হচ্ছে না।
যে বাবা-মা নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের বড় করেছেন, তাঁদের এমন পরিণতি দেখে স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও ওই বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, সন্তানদের জন্য জীবনের সঞ্চিত সময় ও শ্রম বিলিয়ে দেওয়া এই বৃদ্ধ দম্পতিই আজ নিজেদের সন্তানদের কাছে যেন বোঝা হয়ে পড়েছেন—এমন অভিযোগই ঘুরে বেড়াচ্ছে।
একসময় যে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে বাবা-মা নিজেরা না খেয়ে থেকেছেন, আজ সেই সন্তানদের কাছেই শেষ বয়সে একটু আশ্রয়, খাবার ও যত্নের প্রত্যাশা তাঁদের। কিন্তু অভিযোগ, সেই সামান্য আশ্রয়টুকুও তাঁরা পাচ্ছেন না।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—বাবা-মায়ের জন্য পাঁচতলা ভবনের একটি ছোট্ট ঘরও কি রাখা যায় না? সিঁড়ির নিচের সামান্য জায়গাটুকুও কি তাঁদের জন্য বরাদ্দ করা সম্ভব নয়? প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে সামান্য পচা-বাসি ভাত হলেও কি তাঁদের মুখে তুলে দেওয়া যায় না?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো সংশ্লিষ্ট সন্তানদেরই দিতে হবে।
একদিকে ১০ সন্তানকে মানুষ করার জন্য বাবা-মায়ের সীমাহীন ত্যাগ, অন্যদিকে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁদের আশ্রয়হীনতা—ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং আমাদের সমাজে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও মানবিকতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।
তবে ঘটনাটির প্রকৃত পরিস্থিতি, সন্তানদের বক্তব্য এবং ওই দম্পতির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদেরও এই অসহায় বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
শেষ বয়সে বাবা-মায়ের প্রয়োজন বড় কোনো প্রাসাদ নয়—প্রয়োজন একটু আশ্রয়, দুমুঠো খাবার আর আপনজনের সামান্য মায়া।