নিজস্ব প্রতিবেদক
অন্তর্ভুক্তিমূলক, বাসযোগ্য ও জলবায়ু-সহনশীল নগর গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার পুরোপুরি বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে প্রণীত জাতীয় নগর নীতি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে ‘জাতীয় নগর ফোরাম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নগর নীতির টেকসই কাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি শহরকে বাসযোগ্য করে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিক যাতে প্রাপ্য সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে বসবাস করতে পারেন, সেটিই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে নগরবাসীর জীবনযাত্রায় যাতে দুর্ভোগ নেমে না আসে, সে বিষয়ে সরকার সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছে। শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও স্বাস্থ্যকর ও সহায়ক নগর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন বলেন, “আমরা আমাদের প্রিয় শহরগুলোকে শুধু বর্তমান সময়ের জন্যই বাসযোগ্য করতে চাই না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই; যাতে তারা দূষণমুক্ত বাতাসে মুক্তভাবে শ্বাস নিতে পারে।”
আলোচনায় ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিক্স বলেন, জাতীয় নগর ফোরামের আয়োজনই শেষ কথা নয়। নগর নীতি নিয়ে ফোরামে যে আলোচনা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে একটি যৌথ দায়বদ্ধতার সূচনা হলো।
ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ও উন্নয়ন পরিচালক জেমস গোল্ডম্যান আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় নগর ফোরাম বাংলাদেশে টেকসই নগর উন্নয়নে সহায়তাকারী উন্নয়ন অংশীদারদের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর আকিরা মাতসুনগা বলেন, বাংলাদেশের নগর উন্নয়ন খাতে এডিবি দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদার। শহরগুলোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, বাসযোগ্য ও অর্থনৈতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে সহযোগিতা জোরদার করাই এডিবির অন্যতম অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানের প্যানেল আলোচনায় ঢাকা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম অর্থনৈতিক করিডোরকে ঘিরে কেন্দ্রীভূত বিনিয়োগের সুবিধা এবং নগর উন্নয়নের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে যানজট, জলাবদ্ধতা, অপ্রতুল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ দূষণ এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সীমিত সক্ষমতার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।