• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন
Headline
বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প, শ্রমিক অসন্তোষ ও সাম্প্রতিক সহিংসতা: সংকটের কারণ, স্বার্থান্বেষী মহলের ভূমিকা ৬৭ কর্মকর্তা পরিদর্শক থেকে সহকারী পুলিশ সুপার হলেন জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বন্ধ থাকবে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটডোর স্বামী নির্মাতা সিনেমার নায়িকা মেহজাবীন, সঙ্গে নিশো ‘যে মধুতে মরে, তারে বিষ দিতে নেই’ : পরীমণি ‘আমেরিকানরা যুদ্ধের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে’: ইরান কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তৎপরতা শুরু আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন রোনালদোর জয় দিয়ে ভারতের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ১৫তম শুরু

‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যে আইজিপির অপসারণ চান নাহিদ ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক / ৬৩ Time View
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
ফাইল ছবি : নাহিদ ইসলাম

পুলিশ সংস্কারের দাবি, নিরপেক্ষ স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের অনুমতি পেলে ‘ক্রসফায়ার’ করার বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যের সমালোচনা করে তাঁর অপসারণ দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, শুধু ক্ষমা চাওয়া যথেষ্ট নয়; এমন বক্তব্যের পর আইজিপির পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীতে আমূল সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এই বিরোধীদলীয় নেতা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এনসিপির সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

আইজিপির বক্তব্যের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধানের দায়িত্ব আইনের শাসন নিশ্চিত করা। অথচ সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ‘ক্রসফায়ার’ করার কথা বলা হয়েছে, যা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, এ ঘটনা পুলিশ বাহিনীতে গভীর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। তিনি আইজিপিকে দ্রুত দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছিলেন, ‘যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে আমরা সেটাই করব।’

এ বক্তব্যের পর পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি দিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যা বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার কথা বোঝাননি; বরং অপরাধ দমনে কঠোর আইন প্রয়োগের বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বলেছেন, আইজিপির বক্তব্য সরকারের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না এবং সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করে না।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাদের আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে আয়োজন করতে ব্যর্থ হলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে দায় নিতে হবে। দলীয় প্রভাব বিস্তার করে একতরফা নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা হলে রাজপথে প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক অভিযোগ করেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয় প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, গঠনমূলক সমালোচনার জেরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করার ঘটনাও উদ্বেগজনক। এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে সভায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর প্রসঙ্গ তুলে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি নিয়েও কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবির প্রতি সমর্থন জানান তিনি।

সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ এবং ঢাকা উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।

আহত শিক্ষার্থী বাপ্পির বাড়িতে নাহিদ ইসলাম

সভা শেষে মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বেড়াইদেরচালা এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ব বরণকারী শিক্ষার্থী মো. বাপ্পির বাড়িতে যান নাহিদ ইসলাম। সেখানে তিনি বাপ্পি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষের আত্মত্যাগ, অঙ্গহানি ও পঙ্গুত্ব বরণের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাই রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আহত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তাঁদের চিকিৎসায় প্রশাসনিক জটিলতা বা গাফিলতি যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category