ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ‘খুবই ইতিবাচক’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী থেকে জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ট্রাম্প বলেন—যুদ্ধের সমাধান খুঁজে বের করতে তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইতিবাচক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমার প্রতিনিধিরা ইরানের সঙ্গে খুবই ইতিবাচক আলোচনা করছে। এই আলোচনা সবার জন্য ভালো কিছু বয়ে আনতে পারে।”
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান, যুদ্ধ বন্ধে তেহরান ১৪ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন সেই প্রস্তাবের জবাবও দিয়েছে।
ট্রাম্প জানান, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সময় অনুযায়ী সোমবার সকাল থেকে শুরু হবে। তিনি এটিকে একটি ‘মানবিক উদ্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “অনেক জাহাজে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সরবরাহ কমে আসছে। তাই আমরা তাদের নিরাপদে চলাচলের দিকনির্দেশনা দেব, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে।”
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এ অভিযানে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, শতাধিক বিমান, মানববিহীন প্ল্যাটফর্ম এবং প্রায় ১৫ হাজার সেনা সদস্য অংশ নেবে। সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, এই প্রতিরক্ষামূলক মিশন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হন। জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়। পরে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী সমঝোতা হয়নি।
সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, যার ফলে বৈশ্বিক তেল, গ্যাস ও সার পরিবহন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। পাল্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা এক্সএসমেরিনের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত উপসাগরে ৯০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছিল, যা সংঘাত শুরুর সময় ১ হাজার ১০০-এর বেশি ছিল।