জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবস্থাকে আরও নির্ভুল, নিরাপদ ও জালিয়াতিমুক্ত করতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সংস্কার আনছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন উদ্যোগের আওতায় অনলাইনে কাবিননামা ও তালাকনামা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে। পাশাপাশি আরও আটটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ডেটাবেজ নির্বাচন কমিশনের সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেকেই বিয়ে বা তালাকের তথ্য গোপন করে এনআইডি সংশোধন কিংবা নতুন পরিচয়পত্র তৈরির চেষ্টা করেন। নতুন ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে এ ধরনের অনিয়ম কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।
নির্বাচন কমিশনের মতে, গোপন বিয়ে, তালাকের তথ্য আড়াল করা এবং ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে এনআইডি সংশোধনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব কারণে উত্তরাধিকার নির্ধারণ, পারিবারিক বিরোধ, পেনশন প্রাপ্তি এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এ ছাড়া মিথ্যা তথ্য দিয়ে এনআইডি সংশোধনের ঘটনায় মামলা পরিচালনায় সময় ও জনবল ব্যয় হওয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় এনআইডির অনলাইন আবেদনপত্রে বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত পৃথক তথ্যঘর থাকবে। আবেদনকারী তথ্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাচন কমিশনের সার্ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ডেটাবেজ থেকে তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করবে।
তথ্য ভুল হলে অথবা প্রয়োজনীয় তথ্য না দিলে আবেদনকারী পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন না। এ লক্ষ্যে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিভাগের কাছে ইতোমধ্যে এপিআই (API) সংযোগ চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বৈবাহিক তথ্যের পাশাপাশি নাগরিকদের তথ্য আরও নির্ভুল করতে আটটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ডেটাবেজও নির্বাচন কমিশনের সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—
ইসি জানিয়েছে, এর আগে শিক্ষা সনদ ও জন্মনিবন্ধন অনলাইনে যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। নতুন সংযোগগুলো চালু হলে এনআইডি জালিয়াতির সুযোগ আরও সীমিত হবে।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের তথ্যভাণ্ডারে নিবন্ধিত নাগরিকের সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।
নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ বলেন, একটি নির্ভুল এনআইডি ডেটাবেজ গড়ে তুলতে তথ্যের শতভাগ সঠিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমানে ম্যানুয়াল যাচাইয়ে অনেক সময় ব্যয় হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ডেটাবেজের সঙ্গে সরাসরি এপিআই সংযোগ স্থাপন করা গেলে তথ্য যাচাই দ্রুত হবে এবং অনিয়ম ও জালিয়াতি কার্যকরভাবে বন্ধ করা সম্ভব হবে।