স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ।
রোববার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়েছিল। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই সংকট কাটিয়ে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে বর্তমান সরকার কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করে একটি বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী বাজেট উপস্থাপন করেছেন। এই বাজেট দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের ভিত্তি তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে— রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রিস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছরে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, তিন বছরের মধ্যে রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সংস্কার, বিনিয়োগ ও রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং পাঁচ বছরে উদ্ভাবননির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, অতীতেও বিএনপি বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা করে দেশকে অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়েছে। বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সরকারের বৈদেশিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন ও মালয়েশিয়া সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।