ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শেষ বিদায়ের আয়োজন। ভোর থেকেই প্রাঙ্গণ ও আশপাশের সড়কে মানুষের ঢল নামে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত জনসমাগমের কারণে গ্র্যান্ড মোসাল্লার অতিরিক্ত প্রবেশপথ খুলে দেওয়া হয়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই সাধারণ মানুষকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল খামেনির কফিনে খচিত আরবি ক্যালিগ্রাফি। কফিনে লেখা ছিল— “صلى الله عليك يا أبا عبد الله”, যার বাংলা অর্থ, “আল্লাহ আপনার ওপর রহমত বর্ষণ করুন, হে আবা আবদিল্লাহ।” শিয়া ইসলামী ঐতিহ্যে “আবা আবদিল্লাহ” উপাধিটি ইমাম হুসাইনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং কারবালার আত্মত্যাগের স্মৃতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানজুড়ে বিপুলসংখ্যক লাল পতাকা দেখা যায়, যা ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতিতে আত্মত্যাগ, শহীদদের রক্ত এবং প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ এসলামির মতে, এসব লাল পতাকা সমর্থকদের পক্ষ থেকে খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বানের প্রতীকী বার্তা বহন করছে।
এদিকে শোকানুষ্ঠানকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বাহিনীটি যেকোনো ধরনের হামলা বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের আয়োজন শুধু একটি রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠান নয়; এটি ইরানের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও আঞ্চলিক বাস্তবতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।