• শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ন
Headline
প্রধানমন্ত্রীর সফরে কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ায় উৎসব, বাজিতপুরবাসীর প্রশ্ন—‘আমাদের জন্য কী?’ অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন সংস্কৃতি চর্চাকে লালন ও পরিচর্যা করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বেগম খালেদা জিয়া: বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক অদম্য কণ্ঠস্বর চিকিৎসক ও রোগীর আস্থা, সহানুভূতির বন্ধনই চিকিৎসাসেবার মূল ভিত্তি : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও প্রেরণা বিএনপিকে পথ দেখায়: সাবেক মহাসচিব একজনের হাতে একাধিক মন্ত্রণালয়, কোথাও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সীতাকুণ্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজে গ্যাস লিকেজ ও বিস্ফোরণ: প্রাণহানি অন্তত ৮, ইয়ার্ডে ভাঙচুর এপিএসসির উপদেষ্টা হলেন ঢাকা জেলার এসপি শামীমা পারভীন বেগম খালেদা জিয়া: বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক অদম্য কণ্ঠস্বর হাসিনার প্রত্যর্পণ না হলে ভারত সফর নয়, ব্রিকসেও যাবেন না তারেক

বেগম খালেদা জিয়া: বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক অদম্য কণ্ঠস্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭ Time View
Update : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

ঢাকা, ১৪ আগস্ট ২০২৬:

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া এক অবিস্মরণীয় নাম। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে তিনি দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রাজপথের আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা—সব ক্ষেত্রেই তাঁর নেতৃত্বের ছাপ রয়েছে।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর দেশের রাজনৈতিক সংকটময় পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সক্রিয় হন। দীর্ঘ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি বারবার গ্রেপ্তার ও গৃহবন্দিত্বের শিকার হলেও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপির নেতৃত্ব যখন গভীর সংকটের মুখে, তখন দলের নেতাদের অনুরোধে ১৯৮২ সালে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন খালেদা জিয়া। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক ফরমান জারি করে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করলে বিএনপিও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া দলকে সংগঠিত করার পাশাপাশি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

১৯৮৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক জনসভায় প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে জনসমক্ষে আসেন তিনি। একই বছরের ২৮ অক্টোবর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। আন্দোলন দমনে পুলিশি পদক্ষেপের পর তাঁকে গৃহবন্দী করা হয়। পরবর্তী বছরগুলোতেও নিষেধাজ্ঞা, পুলিশি বাধা ও গ্রেপ্তার উপেক্ষা করে তিনি ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যান।

১৯৮৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বর্জন করে। নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে আবারও গৃহবন্দী করা হয়। ওই নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে এবং এরশাদ পুনরায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচন বর্জনের কারণে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানের মুখে এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা তাঁকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত করে তোলে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। তাঁর নেতৃত্বে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ সময়ে বাজারমুখী অর্থনৈতিক সংস্কার, শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং নারী শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে তিনি আবারও প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকার পরিচালনা করেন।

২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং প্রায় দুই বছর দেশ পরিচালনা করে।

পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়া কারাবন্দিত্বসহ নানা রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমান দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করেন এবং ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় মারা যান। রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও দেশ ছাড়ার চাপ প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশকেই নিজের একমাত্র ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন খালেদা জিয়া—এমনটাই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে খালেদা জিয়া কারাবন্দিত্ব, সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদসহ বিভিন্ন হয়রানির শিকার হন। প্রতিবেদনে এসব ঘটনাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিপীড়ন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরে আসার পথ সুগম হয়।

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তাঁর জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় দেশবাসী তাঁকে বিদায় জানায়।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমান বর্তমানে দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন, ক্ষমতা, বিরোধী দলের রাজনীতি, কারাবন্দিত্ব ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় তৈরি করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনের ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘদিন আলোচিত হয়ে থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category