আগামীকাল রোববার (১৬ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফরকে ঘিরে পুরো জেলাজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম কিশোরগঞ্জ সফর। সফরে কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
সফরকে কেন্দ্র করে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সাজসজ্জা, সড়ক সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কটিয়াদীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন এবং পাকুন্দিয়ায় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচি রয়েছে। পরে কিশোরগঞ্জ সদরেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে যখন জেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আমেজ, তখন অনেকটা নীরব হতাশা বাজিতপুরবাসীর মধ্যে। তাঁদের প্রশ্ন—প্রধানমন্ত্রী যখন কিশোরগঞ্জের পাশের উপজেলা কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ায় যাবেন, তখন বাজিতপুর কি এবারও তাঁর সফরের বাইরে থেকে যাবে?
বাজিতপুরবাসীর দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি গ্যাস সুবিধা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কুলিয়ারচর হয়ে গ্যাসের সঞ্চালন অবকাঠামো কটিয়াদীর দিকে গেলেও বাজিতপুর সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে গ্যাস-সংযোগের অভাবে সম্ভাবনাময় এই জনপদের শিল্প, ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কাঙ্ক্ষিত গতি পাচ্ছে না—এমন দাবি স্থানীয়দের।
তাঁদের ক্ষোভ, “গ্যাস লাইন আমাদের পাশ দিয়ে যাবে, কিন্তু বাজিতপুর গ্যাস পাবে না—এটা আর কতদিন?”
প্রধানমন্ত্রীর সফরে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন দাবি, প্রকল্প ও সুবিধা ঘোষণার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কটিয়াদীর স্থানীয় প্রশাসনও জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় উপজেলার পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোর উন্নয়নের বিষয় তাঁর নজরে আনার চেষ্টা করা হবে।
এ অবস্থায় বাজিতপুরবাসীর প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি শুধু সফরের নির্ধারিত এলাকাগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; জেলার অন্য উপজেলাগুলোর সমস্যাও তিনি বিবেচনায় নেবেন।
বিশেষ করে গ্যাস সংযোগ, সড়ক যোগাযোগ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাজিতপুরের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান চান স্থানীয়রা।
তাঁদের ভাষায়, “প্রধানমন্ত্রী আমাদের এলাকায় না এলেও আমরা তাঁর কাছে উন্নয়নের ন্যায্য হিস্যা চাই। কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া যদি পায়, বাজিতপুর কেন বঞ্চিত থাকবে?”
প্রধানমন্ত্রীর আগামীকালের সফর তাই শুধু কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া কিংবা জেলা সদরের মানুষের জন্য নয়—বাজিতপুরবাসীর কাছেও এটি প্রত্যাশা ও প্রশ্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এখন দেখার বিষয়, প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাজিতপুরের জন্য কোনো সুখবর আসে কি না।