• মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০০ অপরাহ্ন

১০ সন্তান মানুষ করেও শেষ বয়সে ঠাঁই হলো গাছতলায়, বরগুনায় অসহায় বাবা-মায়ের করুণ পরিণতি

ইকবাল খান, স্টাফ রিপোটার / ৪৬ Time View
Update : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট ভুলে গিয়েছিলেন তাঁরা। না খেয়ে, অর্ধাহারে থেকেও একে একে ১০ সন্তানকে মানুষ করেছেন। ভেবেছিলেন, শেষ বয়সে সন্তানদের ঘরেই কাটবে জীবনের বাকি দিনগুলো।

কিন্তু সেই সন্তানরাই বড় হয়ে নিজেদের জীবন গুছিয়ে নিলেও অসহায় বাবা-মায়ের জন্য নাকি হয়নি কোনো ঠাঁই।

এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা উঠে এসেছে বরগুনার তালতলী উপজেলার বড় ভাইজোড়া গ্রামের এক অসহায় দম্পতিকে ঘিরে।

স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, ওই বাবা-মায়ের ১০ সন্তানই এখন নিজ নিজ পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। সন্তানদের কারও কারও বাড়ি বহুতল ভবন হলেও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের থাকার মতো জায়গা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

জীবনের শেষ সময়ে এসে সেই বাবা-মায়ের আশ্রয় হয়েছে একটি গাছতলায়। অসুস্থ মা ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। বয়সের ভারে ন্যুব্জ বাবা কোনোভাবে দিন পার করছেন। যে জমি ও ঘর নিয়ে একসময় সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই ঘরেও নাকি আজ তাঁদের জায়গা হচ্ছে না।

যে বাবা-মা নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের বড় করেছেন, তাঁদের এমন পরিণতি দেখে স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও ওই বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, সন্তানদের জন্য জীবনের সঞ্চিত সময় ও শ্রম বিলিয়ে দেওয়া এই বৃদ্ধ দম্পতিই আজ নিজেদের সন্তানদের কাছে যেন বোঝা হয়ে পড়েছেন—এমন অভিযোগই ঘুরে বেড়াচ্ছে।

একসময় যে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে বাবা-মা নিজেরা না খেয়ে থেকেছেন, আজ সেই সন্তানদের কাছেই শেষ বয়সে একটু আশ্রয়, খাবার ও যত্নের প্রত্যাশা তাঁদের। কিন্তু অভিযোগ, সেই সামান্য আশ্রয়টুকুও তাঁরা পাচ্ছেন না।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—বাবা-মায়ের জন্য পাঁচতলা ভবনের একটি ছোট্ট ঘরও কি রাখা যায় না? সিঁড়ির নিচের সামান্য জায়গাটুকুও কি তাঁদের জন্য বরাদ্দ করা সম্ভব নয়? প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে সামান্য পচা-বাসি ভাত হলেও কি তাঁদের মুখে তুলে দেওয়া যায় না?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো সংশ্লিষ্ট সন্তানদেরই দিতে হবে।

একদিকে ১০ সন্তানকে মানুষ করার জন্য বাবা-মায়ের সীমাহীন ত্যাগ, অন্যদিকে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁদের আশ্রয়হীনতা—ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং আমাদের সমাজে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও মানবিকতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।

তবে ঘটনাটির প্রকৃত পরিস্থিতি, সন্তানদের বক্তব্য এবং ওই দম্পতির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদেরও এই অসহায় বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

শেষ বয়সে বাবা-মায়ের প্রয়োজন বড় কোনো প্রাসাদ নয়—প্রয়োজন একটু আশ্রয়, দুমুঠো খাবার আর আপনজনের সামান্য মায়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category