বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু সেই বাড়তি বাজারের সুবিধা নিতে পারছে না বাংলাদেশ, বরং সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থতা, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও পণ্যের বৈচিত্র্যের ঘাটতির সুযোগে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অর্ডার চলে যাচ্ছে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোয়। ফলে বৈশ্বিক পোশাক বাণিজ্য সম্প্রসারণ হলেও ক্রমেই কমছে বাংলাদেশের বাজার অংশ। বড় বাজারগুলোয়ও রপ্তানিতে দেখা দিয়েছে চাপ। শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই প্রবণতা দীর্ঘায়িত হলে শুধু নতুন অর্ডার নয়, দীর্ঘদিনের ক্রেতা ও বাজারও হারাতে পারে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক পোশাক বাণিজ্য ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ৫৭৪ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। একই সময়ে বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বাংলাদেশের অংশ ২০২৪ সালের ৭ শতাংশ থেকে কমে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশে নেমে এসেছে। বিপরীতে ভিয়েতনামের বাজার অংশ ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার অংশ ১ দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে ২ শতাংশের ওপরে উঠেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হলে তার প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে। শিল্প খাতে উৎপাদন কমে গেলে রপ্তানি আয় হ্রাস পায়, কর্মসংস্থান সংকুচিত হয় এবং সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে গেলে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে।
বিশ্বব্যাংক ঢাকা আবাসিক মিশনের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকলে অথবা উৎপাদন কম হলে এর প্রভাব পড়ে রপ্তানিতে। ক্রেতাদের চাহিদা মতো সরবরাহ করতে না পারলে ক্রেতা ছুটে যাবে এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, ঘটনাচক্রে একবার দুইবার সমস্যা হলে ক্রেতারা সম্পর্কের জন্য মেনে নিবে। কিন্তু এই সমস্যা লাগাতার চলতে থাকেলে ক্রেতারা অন্যত্র চলে যাবে এটাই বাস্তব। তাদেরকে ধরে রাখা যাবে না। যেখানে তারা সুবিধা পাবে, সেখানেই চলে যাবে।
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। ভিয়েতনাম, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সুবিধা নিশ্চিত করতে পারায় তারা দ্রুত উৎপাদন ও সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের শিল্প খাতে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকট বিদেশি ক্রেতাদের বিকল্প বাজার খুঁজতে উৎসাহিত করতে পারে।
রপ্তানিকারকরা বলছেন, সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে শুধু বর্তমান অর্ডারই নয়, ভবিষ্যতের ক্রয়াদেশও হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে একটি অর্ডার অন্য দেশে চলে গেলে তা পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং কর্মসংস্থান উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
জানতে চাইলে নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আমাদের সময়কে বলেন, তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আবার সব কারখানায় উৎপাদন কমেছে। এর ফলে অনেক অর্ডার বাতিল হবে, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনকি বেশ কিছু অর্ডার ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় চলে গেছে বলে তাকে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি ইনামুল হক খান বাবলু আমাদের সময়কে বলেন, গ্যাস, বিদ্যুতের সংকটের কারণে গেল কয়েক মাস ধরে পোশাক খাতে চরম অস্থিরতা চলেছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন কমে অর্ধেকে নেমেছে। যার প্রভাব রপ্তানিতে পড়বে। পাশাপাশি অর্ডারও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা পুরোপুরি কমে যাচ্ছে— এমন নয়; বরং ক্রেতারা সরবরাহকারী দেশ পরিবর্তন করছেন। বিশেষ করে চীনের বাজার অংশ কমার পর সেই অর্ডারের বড় একটি অংশ ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া নিতে পারলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিত সুবিধা নিতে পারেনি।
ইউরোপের বাজারে বড় ধাক্কা : বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন। কিন্তু চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এই বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জানুয়ারি-জুন ২০২৬ সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ৮ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে। রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং গড় রপ্তানি মূল্য কমেছে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
এদিকে একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট পোশাক আমদানি কমেছে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ ইউরোপের সামগ্রিক বাজার সংকুচিত হলেও বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে তার চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষ উদ্বেগের বিষয়, জানুয়ারি-মে সময়ে বাংলাদেশের ইউরোপীয় বাজারে রপ্তানি কমেছিল প্রায় ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে ভিয়েতনামের রপ্তানি কমেছে মাত্র ১ দশমিক ৫১ শতাংশ।
এ চিত্রই বলে দিচ্ছে— শুধু বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়াকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমার একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রতিযোগী দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যয় ও সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতাও বড় কারণ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও প্রতিযোগিতা : যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান পোশাক বাজার। চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। অথচ একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কম্বোডিয়ার পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের বেড়েছে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
তবে পুরো চিত্রটি একেবারে নেতিবাচক নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্য ও কানাডাতেও রপ্তানি বেড়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের পোশাক এখনও আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত অবস্থানে আছে; কিন্তু প্রতিযোগিতার চাপ দ্রুত বাড়ছে।
কেন পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ : শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের বড় সমস্যা হচ্ছে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, উচ্চ সুদহার, শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবহন ও লজিস্টিকস ব্যয় এবং বিনিয়োগের ধীরগতি শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে দুর্বল করছে।
বিশেষ করে জ্বালানি সংকট পোশাক খাতের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমইএ) জানিয়েছে, অপর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে কিছু কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা ২৫-৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাচ্ছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন শুধু কম দাম চান না। তারা দ্রুত ডেলিভারি, মানসম্মত পণ্য, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, শ্রমমান, প্রযুক্তি এবং পণ্যের বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ), স্পোর্টসওয়্যার, টেকনিক্যাল পোশাকসহ উচ্চমূল্যের পণ্যে বাংলাদেশ এখনও ভিয়েতনামসহ কয়েকটি প্রতিযোগী দেশের তুলনায় পিছিয়ে।
কেন অর্ডার যাচ্ছে অন্য দেশে : বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো পণ্যের বৈচিত্র্য কম। তুলাভিত্তিক পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশ শক্তিশালী হলেও ম্যান-মেড ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে এখনও পিছিয়ে। ফলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো যখন দ্রুত ফ্যাশন, স্পোর্টসওয়্যার, টেকনিক্যাল পোশাক ও বৈচিত্র্যময় পণ্যের দিকে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ সব ধরনের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, পোশাক খাতকে শুধু কম মজুরির ওপর নির্ভরশীল না রেখে প্রযুক্তিনির্ভর ও উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে যেতে হবে। একই সঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
পাশাপাশি বন্দরের দক্ষতা বাড়ানো, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করা, পরিবহন ব্যয় কমানো এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত পণ্য সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানোও প্রয়োজন।
বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে পণ্যের বৈচিত্র্য ও নতুন বাজার তৈরিতে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, লাতিন আমেরিকা ও অন্যান্য উদীয়মান বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি বাড়ানো দরকার।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানি ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। যদিও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় কিছুটা প্রবৃদ্ধি হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে দুর্বলতা সামগ্রিক রপ্তানিতে চাপ তৈরি করেছে।
বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা এখনও আছে। কিন্তু সেই চাহিদার অর্ডার পেতে হলে আগের তুলনায় বেশি প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে; অন্যদিকে ভারতও ইউরোপসহ বিভিন্ন বাজারে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
ফলে বাংলাদেশের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ শুধু রপ্তানি বাড়ানো নয়, বাজারের অংশ ধরে রাখা। উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সংকট, পণ্যের বৈচিত্র্যের ঘাটতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা দ্রুত সমাধান করা না গেলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আরও বেশি অর্ডার প্রতিযোগী দেশগুলোর দিকে চলে যেতে পারে।
এদিকে ভারতের পোশাক রপ্তানিকারকরাও ইউরোপের বাজারে দ্রুত নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। নতুন বাণিজ্যিক সুবিধা ও পরিবর্তিত বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোপে নতুন ক্রেতা ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন শুধু কম দাম নয়; দ্রুত সরবরাহ, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, শ্রমমান, প্রযুক্তি, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই শুধু সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার ও উদ্যোক্তাদের কয়েকটি বিষয়ে দ্রুত গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ম্যান-মেড ফাইবার ও উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। তৃতীয়ত, বন্দর ও কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমাতে হবে। একই সঙ্গে করনীতি ও শিল্পনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানেও উদ্যোগ বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশকে ‘কম দামের পোশাক উৎপাদনকারী দেশ’ থেকে ‘উচ্চমান ও দ্রুত সরবরাহ সক্ষম বৈশ্বিক পোশাক সরবরাহকারী’ হিসেবে নিজেদের পুনঃস্থাপন করতে হবে।
তবে সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি। প্রয়োজন সমন্বিত সরকারি নীতি, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের পোশাক খাত আবার বৈশ্বিক বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। আর তা না হলে একসময় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাক রপ্তানিকারক বাংলাদেশের বাজার অন্য দেশের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে।
বাংলাদেশের জন্য সুযোগ : বাংলাদেশের পোশাকশিল্প এখনও অত্যন্ত বড় ও শক্তিশালী রপ্তানি খাত। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে মোট পোশাক রপ্তানির মধ্যে ট্রাউজার্স, টি-শার্ট/নিটেড শার্ট, সোয়েটার, শার্ট-ব্লাউজ ও আন্ডারওয়্যার— সবগুলোতেই বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি রয়েছে।