জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষার অভিযোগ বেলকুচি মডেল কলেজের গভর্নিংবডির বিরুদ্ধে
ইসকিন্দার জুলকার নাঈম
/ ৬
Time View
Update :
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
Share
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের নির্ধারিত সময় ছয় মাস হলেও সিরাজগঞ্জের বেলকুচি মডেল ডিগ্রি কলেজে দুই বছরের বেশি সময় ধরে এ দায়িত্ব পালন করছেন মোঃ শামীম হোসেন। তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে দিয়ে নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একাধিকবার চিঠি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও গভর্নিং বডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের স্মারক নম্বর ১২০৬১-এর চিঠিতে বেলকুচি মডেল ডিগ্রি কলেজের কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে ১০ জনের একটি তালিকা তৈরি করে গভর্নিং বডির প্রস্তাবের ভিত্তিতে তিনজনের নাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে নির্দেশনা অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এরপর ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্মারক নম্বর ১৪৯৯৮-এর আরেকটি চিঠি পাঠায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই চিঠিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ শামীম হোসেনকে অব্যাহতি এবং শামীম হোসেনের নাম বাদ দিয়ে কলেজের ১০ জন শিক্ষকের তালিকা থেকে তিনজনের নাম পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করে শামীম হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং কলেজের গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, মোঃ শামীম হোসেনের চাকরির ইতিহাস নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ১৯৯৮ সালের ১০ অক্টোবর কলেজে যোগদান করেন। পরে ২০০৬ সালে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন এবং ২০১২ সালে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুনরায় নিয়োগ পান। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ শামীম হোসেন বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের সাংবাদিকরা যদি আমার বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারবে না। ম্যানেজিং কমিটি যদি আমাকে রাখে, তাহলে আমি থাকব।’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠির বিষয়ে তিনি সেটিকে মিথ্যা ও ভুয়া বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি পেয়েছি, গভর্নিং বডির সভা আহ্বান করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। গভর্নিং বডির সভাপতি এককভাবে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন। এ জন্য আবারও সভা আহ্বান করা হয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে পরিবর্তন আসবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কলেজটির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে স্থানীয়দের।