ঢাজা ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাগলনাইয়ায় ভূমিদস্যু হাশেমের তান্ডব ঘরভাড়া না দেয়ার অভিযোগে তলব করায় ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলা

ছাগলনাইয়ায় ঘর ভাড়া পরিশোধ না করার অভিযোগে আবুল হাশেম প্রকাশ টুপি হাশেমের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া তাহেরের নিকট মোঃ নুরুল হক নামক দোকান মালিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউএনও সাজিয়া তাহের আবুল হাশেমকে নোটিশের মাধ্যমে তার কার্যালয়ে তলব করাতে হাশেম এ তলব বেআইনি দাবি কারে ইউএনওর বিরুদ্ধে আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা ( নং ৩৫/২০২২) দায়ের করে। এ বিষয়ে ইউএনও সাজিয়া তাহের জানান, যে কেউ কারো বিরুদ্ধে ইউএনওর নিকট অভিযোগ করলে ইউএনও তাকে তলব করতেই পারে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে নোটিশের মাধ্যমে তবল করাতে হাশেম উপস্থিত না হয়ে আমার বিরুদ্ধে অযথা মামলা করেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মজুমদার জানান, হাশেম যে দোকান ঘরে ব্যবসা পরিচালনা করছে সেটির প্রকৃত মালিক নুরুল হক। অযথা হয়রানির উদ্দেশ্যে সে দোকান দখলের চেষ্ট করছে। তবে দ্রুত সে দোকান ঘরটি মালিক নুরুল হককে বুঝিয়ে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান। ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের সামনে পুর্ব বাঁশপাড়া নতুন পাড়ায় দোকানঘর ভাড়া নিয়ে সে দোকান দখল করার চেষ্টা করছে ভাড়াটিয়া আবুল হাশেম। আবুল হাশেম বাঁশপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল মুনাফের ছেলে। অন্যদিকে দোকান ঘরের মালিক নুরুল হক বাঁশপাড়া গ্রামের মৃত বজলের রহমানের ছেলে। ভাড়াটিয়া কর্তৃক এমন অনৈতিক আচরণে চরম বিপাকে পড়েছে অসহায় দোকান মালিক মোঃ নুরুল হক। সুত্র জানায়, গত ০১ জানুয়ারি ২০১৭ সালে ভাড়াটিয়া আবুল হাশেম দোকান ঘর চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে মালিক নুরুল হকের নিকট থেকে ঘরটি ভাড়া নেয়। দীর্ঘ পাঁচ বছর ঘর ভাড়া প্রদান করলেও হঠাত ভাড়াটিয়া আবুল হাশেম ওরফে টুপি হাশেম ভূমিদস্যু চক্রের সহযোগিতায় দোকান ঘরটি দখল করার পায়তারা করছে। স্থানীয়রা জানান, দোকানটি দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর যাবত মালিক নুরুল হকের ভোগদখলে রয়েছে। একই বাড়ীর হাশেমকে দয়া দেখিয়ে অল্প টাকা মাসিক ভাড়ায় দোকানটি হাশেমের নিকট ভাড়া দেয় মালিক নুরুল হক। টানা পাঁচ বছর ঘর ভাড়া পরিশোধ করলেও হঠাত সে ভাড়া পরিশোধ করছেনা। দোকান মালিক নুরুল হক ঘর ভাড়া চাইতে গেলে ভাড়াটিয়া হাশেম অকাট্য ভাষায় গালমন্দ করে এবং দোকানটি তার নিজের বলে দাবি করে। দোকান ভাড়া চাইতে গেলে মালিক নুরুল হকের উপর হামলা করারও চেষ্টা করে হাশেম ও তার সহযোগিরা। দোকানের ভাড়ার টাকা চাইতে গেলে ভাড়াটিয়া হাশেম ও তার সহযোগিরা মালিকের উপর হামলা করে এবং মালিককে হয়রানি করার লক্ষে বিভিন্ন সময় মালিক নুরুল হকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে। কাগজপত্র বিশ্লেষণে জানাগেছে, এই দোকানের যাবতীয় কাগজপত্র নুরুল হকের নামেই রয়েছে। দোকান মালিক নুরুল হককে হয়রানি করার জন্য এবং মিথ্যা মামলা সাজানোর জন্য আবুল হাশেম নুরুল হকের সাথে দোকানঘর ভাড়া নেয়ার চুক্তিপত্র থাকা সর্তেও ভূমিদস্যু চক্রের অন্যান্য সদস্যকে মালিক সাজিয়ে নিজে ভাড়াটিয়া উল্লেখ্য করে ভুয়া চুক্তিপত্র তৈরী করে। অন্যদিকে, দোকান মালিক নুরুল হককে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা ও বানোয়াট একটি বন্টন মামলা দাখিল করে সে। যে জায়গায় ( বাঁশপাড়া মৌজার দাগ নং-২৬৪৫/২৭৪৯) মালিকানা পাবে দাবি করে হাশেমগংরা আদালতে বন্টন মামলা (নং-১৬/২০২১ইং) দায়ের করেছে সে জায়গায় তার দাদা মৃত চৌধুরী মিয়ার ৫.৫ শতক সম্পদ থাকলেও তিনি ১৯৬৮ সালে মন্তু মিয়ার নিকট ঐ দাগে ৬ শতক জায়গা বিক্রি করেছেন বলে দলিল সুত্রে প্রমাণিত হয়েছে। দোকানের ভাড়াটিয়া আবুল হাশেম ও তার সহযোগিদের অন্যায় অত্যাচারে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক হতাশা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ এভাবে অন্যের দোকান ভাড়া নিয়ে দখল করার সাহস করলে আশপাশের জায়গার মালিকরা চরম হুমকির মুখে পতিত হবে। এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ না নিলে সমাজে অনিয়ম অত্যাচার বাড়বে বলে আশঙ্কা করেন স্থানীয়রা।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু, আহত ৯ জন

ছাগলনাইয়ায় ভূমিদস্যু হাশেমের তান্ডব ঘরভাড়া না দেয়ার অভিযোগে তলব করায় ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলা

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০৯:২৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মে ২০২২

ছাগলনাইয়ায় ঘর ভাড়া পরিশোধ না করার অভিযোগে আবুল হাশেম প্রকাশ টুপি হাশেমের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া তাহেরের নিকট মোঃ নুরুল হক নামক দোকান মালিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউএনও সাজিয়া তাহের আবুল হাশেমকে নোটিশের মাধ্যমে তার কার্যালয়ে তলব করাতে হাশেম এ তলব বেআইনি দাবি কারে ইউএনওর বিরুদ্ধে আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা ( নং ৩৫/২০২২) দায়ের করে। এ বিষয়ে ইউএনও সাজিয়া তাহের জানান, যে কেউ কারো বিরুদ্ধে ইউএনওর নিকট অভিযোগ করলে ইউএনও তাকে তলব করতেই পারে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে নোটিশের মাধ্যমে তবল করাতে হাশেম উপস্থিত না হয়ে আমার বিরুদ্ধে অযথা মামলা করেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মজুমদার জানান, হাশেম যে দোকান ঘরে ব্যবসা পরিচালনা করছে সেটির প্রকৃত মালিক নুরুল হক। অযথা হয়রানির উদ্দেশ্যে সে দোকান দখলের চেষ্ট করছে। তবে দ্রুত সে দোকান ঘরটি মালিক নুরুল হককে বুঝিয়ে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান। ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের সামনে পুর্ব বাঁশপাড়া নতুন পাড়ায় দোকানঘর ভাড়া নিয়ে সে দোকান দখল করার চেষ্টা করছে ভাড়াটিয়া আবুল হাশেম। আবুল হাশেম বাঁশপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল মুনাফের ছেলে। অন্যদিকে দোকান ঘরের মালিক নুরুল হক বাঁশপাড়া গ্রামের মৃত বজলের রহমানের ছেলে। ভাড়াটিয়া কর্তৃক এমন অনৈতিক আচরণে চরম বিপাকে পড়েছে অসহায় দোকান মালিক মোঃ নুরুল হক। সুত্র জানায়, গত ০১ জানুয়ারি ২০১৭ সালে ভাড়াটিয়া আবুল হাশেম দোকান ঘর চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে মালিক নুরুল হকের নিকট থেকে ঘরটি ভাড়া নেয়। দীর্ঘ পাঁচ বছর ঘর ভাড়া প্রদান করলেও হঠাত ভাড়াটিয়া আবুল হাশেম ওরফে টুপি হাশেম ভূমিদস্যু চক্রের সহযোগিতায় দোকান ঘরটি দখল করার পায়তারা করছে। স্থানীয়রা জানান, দোকানটি দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর যাবত মালিক নুরুল হকের ভোগদখলে রয়েছে। একই বাড়ীর হাশেমকে দয়া দেখিয়ে অল্প টাকা মাসিক ভাড়ায় দোকানটি হাশেমের নিকট ভাড়া দেয় মালিক নুরুল হক। টানা পাঁচ বছর ঘর ভাড়া পরিশোধ করলেও হঠাত সে ভাড়া পরিশোধ করছেনা। দোকান মালিক নুরুল হক ঘর ভাড়া চাইতে গেলে ভাড়াটিয়া হাশেম অকাট্য ভাষায় গালমন্দ করে এবং দোকানটি তার নিজের বলে দাবি করে। দোকান ভাড়া চাইতে গেলে মালিক নুরুল হকের উপর হামলা করারও চেষ্টা করে হাশেম ও তার সহযোগিরা। দোকানের ভাড়ার টাকা চাইতে গেলে ভাড়াটিয়া হাশেম ও তার সহযোগিরা মালিকের উপর হামলা করে এবং মালিককে হয়রানি করার লক্ষে বিভিন্ন সময় মালিক নুরুল হকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে। কাগজপত্র বিশ্লেষণে জানাগেছে, এই দোকানের যাবতীয় কাগজপত্র নুরুল হকের নামেই রয়েছে। দোকান মালিক নুরুল হককে হয়রানি করার জন্য এবং মিথ্যা মামলা সাজানোর জন্য আবুল হাশেম নুরুল হকের সাথে দোকানঘর ভাড়া নেয়ার চুক্তিপত্র থাকা সর্তেও ভূমিদস্যু চক্রের অন্যান্য সদস্যকে মালিক সাজিয়ে নিজে ভাড়াটিয়া উল্লেখ্য করে ভুয়া চুক্তিপত্র তৈরী করে। অন্যদিকে, দোকান মালিক নুরুল হককে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা ও বানোয়াট একটি বন্টন মামলা দাখিল করে সে। যে জায়গায় ( বাঁশপাড়া মৌজার দাগ নং-২৬৪৫/২৭৪৯) মালিকানা পাবে দাবি করে হাশেমগংরা আদালতে বন্টন মামলা (নং-১৬/২০২১ইং) দায়ের করেছে সে জায়গায় তার দাদা মৃত চৌধুরী মিয়ার ৫.৫ শতক সম্পদ থাকলেও তিনি ১৯৬৮ সালে মন্তু মিয়ার নিকট ঐ দাগে ৬ শতক জায়গা বিক্রি করেছেন বলে দলিল সুত্রে প্রমাণিত হয়েছে। দোকানের ভাড়াটিয়া আবুল হাশেম ও তার সহযোগিদের অন্যায় অত্যাচারে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক হতাশা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ এভাবে অন্যের দোকান ভাড়া নিয়ে দখল করার সাহস করলে আশপাশের জায়গার মালিকরা চরম হুমকির মুখে পতিত হবে। এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ না নিলে সমাজে অনিয়ম অত্যাচার বাড়বে বলে আশঙ্কা করেন স্থানীয়রা।