
১২ জুন শান্তি পূর্ণ ও উৎসব মুখর পরিবেশে শেষ হলো দেশের বহুল আলোচিত কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন। বর্তমান মেয়র, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানকে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন না দিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড অপেক্ষাকৃত উদীয়মান তরুণ নেতা সাবেক জেলা ছাত্রলীগ ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ৩ নং ওয়ার্ডের ৪ বার নির্বাচিত কাউন্সিলর মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী কে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দেওয়ার পর পরেই শহর জুড়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে, জেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে শুরু হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের কিংবদন্তি তুল্য প্রয়াত নেতা এ কে এম মোজাম্মেল হক পরিবারের বড় সন্তান জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নৌকা মার্কার মনোনয়ন প্রত্যাশি মাসেদুল হক রাশেদ নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়, পৌরবাসী খারাপ কিছু ঘটে যাওয়ার আশংকা করলেও শেষ পর্যন্ত বড় কোন অঘটন ছাড়াই উৎসব মুখর পরিবেশে চমৎকার আবহাওয়া ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও জোরদার নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে একটা সুষ্ঠু, নিরেপক্ষ ও গ্রহণ যোগ্য নির্বাচন প্রত্যক্ষ করলো দেশবাসী। জননেতা রাশেদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারিকেল গাছ মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে দল থেকে বহিস্কৃত হন শুধু তা নই রাশেদের ছোট ৩ ভাই যথাক্রমে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক সোহেল, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাশেকুল হক মার্শাল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল এবং একমাত্র বোন জেলা যুব মহিলা লীগ নেত্রী রুনা দল থেকে বহিস্কৃত হন এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আব্দুর রহমান সহ আরও কয়েক জন নেতা কর্মী বহিস্কৃত হন এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যনির্বাহী কমিটি কর্তৃক জেলা যুবলীগের কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া হয়। তথাপিও নির্বাচনে এসবের কোন ক্ষতিকর প্রভাব পড়েনি। সারাদিন ভোট শেষে ভোট গণনার পর দ্রততম সময়ের মধ্যে জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার কক্সবাজার সাধারণ নির্বাচন-২০২৩ জনাব এস এম শাহাদাত হোসেন কর্তৃক ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী দেখা যায়, পৌরসভার মোট ভোটারদের সংখ্যা ৯৪৮১১, মোট ভোটকেন্দ্র ৪৩, ফলাফল প্রাপ্ত ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪৩, মোট বৈধ ভোট সংখ্যা ৫৯০৭৯, মোট অবৈধ ভোটের সংখ্যা ২২৭, মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৫৯৩০৬, প্রদত্ত প্রাপ্ত ভোটের শতকরা ৬২.৫৫ শতাংশ। কোন কেন্দ্র স্থগিত নেই। নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২৮০৬২ ভোট পেয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী মেয়র পদে নির্বাচিত হন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাসেদুল হক রাশেদ নারিকেল গাছ মার্কায় ২৪৬৯৯ ভোট প্রাপ্ত হন। ব্যপক আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জগদীশ বড়ুয়া হেলমেট মার্কায় ৪১৬৮ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী জোসনা হক মোবাইল ফোন মার্কায় ৬৯৮ ভোট, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর মো: জাহেদুর রহমান হাতপাখা মার্কায় ১৪৫২ ভোট প্রাপ্ত হন। নব নির্বাচিত কাউন্সিলরা হলেন, ১ নং ওয়ার্ড এস আই আক্তার কামাল ২ নং ওয়ার্ড মিজানুর রহমান ৩নং ওয়ার্ড আমিনুল ইসলাম মুকুল ৪নং ওয়ার্ড এহেছান ৫ নং ওয়ার্ড সাহাব উদ্দিন সিকদার ৬ নং ওয়ার্ড ওমর ছিদ্দিক লালু, ৭ নং ওয়ার্ড ওসমান সরওয়ার টিপু, ৮ নং ওয়ার্ড রাজবিহারি, ৯ নং ওয়ার্ড হেলাল উদ্দিন কবির, ১০ ওয়ার্ড সালাহ উদ্দিন সেতু ১১ নং ওয়ার্ড নুর মুহাম্মদ মাঝু, ১২ নং ওয়ার্ড এম এ মঞ্জুর। মহিলা কাউন্সিলর ১ ২ ৩ শাহিনা আকতার পাখি, ৪ ৫ ৬ ইয়াছমিন আক্তার, ৭ ৮ ৯ জাহেদা আকতার, ১০ ১১ ১২ নাছিমা আকতার।
মামুন আনসারী কক্সবাজার 
























