ঢাজা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তবু মায়ের বুকটাই যেন সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় : দুই শিশু সন্তান

রাতের ট্রেন, যাত্রীভর্তি কামরা, কোলাহলের ফাঁকে একটা কোণায় শুয়ে আছেন এক মা—মাটির ওপর পাতলা কাপড় বিছানো, পাশে ঘুমিয়ে দুই শিশু সন্তান। কোনো বিছানা নেই, মাথার নিচে বালিশ নেই, তবু মায়ের বুকটাই যেন সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। যেন হাজারো অনিশ্চয়তার মধ্যেও শান্তির একটা ছোট্ট দ্বীপ তৈরি করেছেন। এই দৃশ্য শুধু দরিদ্রতা নয়, বরং আমাদের তথাকথিত “সভ্য সমাজের” এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।

জীবন কতটা কঠিন হতে পারে, তা এই চিত্র না দেখলে শুধু কথায় বোঝানো যায় না। মা নিশ্চয়ই সারাদিনের পরিশ্রম আর ক্লান্তির কাছে হেরে গেছেন। তবু তাঁদের মুখে কোনো অভিযোগ নেই—শুধু আছে সহ্য আর আশ্রয় হয়ে থাকার অদম্য শক্তি।

আমরা কি আদৌ সভ্য হয়ে উঠেছি? বড় বড় কথায়, শহুরে আলোয়, দালানে, তথাকথিত উন্নয়নের বাহারেই কি সব প্রগতি থেমে আছে? যারা আজো পায়ে হাঁটে, ঘুমায় মেঝেতে,জীবন যাপন করে অনিশ্চয়তার মাঝে তারা আমাদের সমাজে কোথায়? হয়তো সব বদলানো সম্ভব নয়। তবুও স্বপ্ন দেখি—একদিন এমন ছবি শুধু অতীতের ইতিহাসে থাকবে, আর কোনো মা-কে তাঁর শিশুকে নিয়ে ট্রেনের মেঝেতে রাত কাটাতে হবে না।

একদিন এই পৃথিবীটা সব শিশুদের জন্য একটু নরম হবে, একটু নিরাপদ হবে, একটু বেশি মানবিক হবে।
উপবন এক্সপ্রেস (ঢাকা টু সিলেট )

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের কৃষিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান

তবু মায়ের বুকটাই যেন সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় : দুই শিশু সন্তান

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০২:৪৮:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫

রাতের ট্রেন, যাত্রীভর্তি কামরা, কোলাহলের ফাঁকে একটা কোণায় শুয়ে আছেন এক মা—মাটির ওপর পাতলা কাপড় বিছানো, পাশে ঘুমিয়ে দুই শিশু সন্তান। কোনো বিছানা নেই, মাথার নিচে বালিশ নেই, তবু মায়ের বুকটাই যেন সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। যেন হাজারো অনিশ্চয়তার মধ্যেও শান্তির একটা ছোট্ট দ্বীপ তৈরি করেছেন। এই দৃশ্য শুধু দরিদ্রতা নয়, বরং আমাদের তথাকথিত “সভ্য সমাজের” এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।

জীবন কতটা কঠিন হতে পারে, তা এই চিত্র না দেখলে শুধু কথায় বোঝানো যায় না। মা নিশ্চয়ই সারাদিনের পরিশ্রম আর ক্লান্তির কাছে হেরে গেছেন। তবু তাঁদের মুখে কোনো অভিযোগ নেই—শুধু আছে সহ্য আর আশ্রয় হয়ে থাকার অদম্য শক্তি।

আমরা কি আদৌ সভ্য হয়ে উঠেছি? বড় বড় কথায়, শহুরে আলোয়, দালানে, তথাকথিত উন্নয়নের বাহারেই কি সব প্রগতি থেমে আছে? যারা আজো পায়ে হাঁটে, ঘুমায় মেঝেতে,জীবন যাপন করে অনিশ্চয়তার মাঝে তারা আমাদের সমাজে কোথায়? হয়তো সব বদলানো সম্ভব নয়। তবুও স্বপ্ন দেখি—একদিন এমন ছবি শুধু অতীতের ইতিহাসে থাকবে, আর কোনো মা-কে তাঁর শিশুকে নিয়ে ট্রেনের মেঝেতে রাত কাটাতে হবে না।

একদিন এই পৃথিবীটা সব শিশুদের জন্য একটু নরম হবে, একটু নিরাপদ হবে, একটু বেশি মানবিক হবে।
উপবন এক্সপ্রেস (ঢাকা টু সিলেট )