ঢাজা ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিএনএ পরীক্ষায় জুলাই অভ্যুত্থানের অজ্ঞাত আট শহীদের পরিচয় শনাক্ত করল সিআইডি

ডিএনএ প্রোফাইলিং ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাতনামা আট শহীদের পরিচয় শনাক্ত করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে সিআইডির আয়োজনে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহীদদের মরদেহ পরিচয় শনাক্তকরণ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্যরাও বক্তব্য দেন।

শনাক্ত হওয়া শহীদরা হলেন—

১. মো. মাহিন মিয়া (২৫)—গাজী মামুদ ও জোসনা বেগমের ছেলে, ফুলপুর থানা, ময়মনসিংহ (নিহত: ১৮ জুলাই ২০২৪)
২. আসাদুল্লাহ—আব্দুল মালেক ও আয়েশা বেগমের ছেলে, শ্রীবরদী, শেরপুর (নিহত: ১৯ জুলাই ২০২৪)
৩. পারভেজ বেপারী—সবুজ বেপারী ও শামসুন্নাহারের ছেলে, মতলব, চাঁদপুর (নিহত: ১৯ জুলাই ২০২৪)
4. রফিকুল ইসলাম—মৃত আব্দুল জব্বার সিকদারের ছেলে, নাজিরপুর, পিরোজপুর (নিহত: ১৯ জুলাই ২০২৪)
৫. সোহেল রানা—মো. লাল মিয়া ও রাশেদা বেগমের ছেলে, লৌহজং, মুন্সীগঞ্জ (নিহত: জুলাই ২০২৪)
৬. রফিকুল ইসলাম—মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে, ফেনী সদর, ফেনী (নিহত: ১৯ জুলাই ২০২৪)
৭. ফয়সাল সরকার—শফিকুল ইসলামের ছেলে, দেবিদ্বার, কুমিল্লা (নিহত: ২২ জুলাই ২০২৪)
৮. কাবিল হোসেন (৫৮)—মৃত বুলু মিয়া ও শামেনা বেগমের ছেলে, মুগদা, ঢাকা (নিহত: ২ আগস্ট ২০২৪)

সিআইডি জানায়, রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে এ পর্যন্ত মোট ১১৪ জন অজ্ঞাত মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি পরিবারের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে আটজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট একটি মরদেহের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কবর শনাক্তের পর আটটি পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ ১৮ মাস পর স্বজনদের কবর শনাক্ত করতে পেরে পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। রায়েরবাজার কবরস্থানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সিআইডি জানায়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং আদালতের নির্দেশে পরিচালিত এই কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও মিনেসোটা প্রোটোকল অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সহায়তায় আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. লুইস ফনডেরিডারের নেতৃত্বে মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এর আগে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবল-বিঞ্জ সিআইডির ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিকেল টিমকে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেন।

সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, সম্ভাব্য সব নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং মর্যাদার সঙ্গে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের কৃষিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান

ডিএনএ পরীক্ষায় জুলাই অভ্যুত্থানের অজ্ঞাত আট শহীদের পরিচয় শনাক্ত করল সিআইডি

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০১:৪০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

ডিএনএ প্রোফাইলিং ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাতনামা আট শহীদের পরিচয় শনাক্ত করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে সিআইডির আয়োজনে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহীদদের মরদেহ পরিচয় শনাক্তকরণ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্যরাও বক্তব্য দেন।

শনাক্ত হওয়া শহীদরা হলেন—

১. মো. মাহিন মিয়া (২৫)—গাজী মামুদ ও জোসনা বেগমের ছেলে, ফুলপুর থানা, ময়মনসিংহ (নিহত: ১৮ জুলাই ২০২৪)
২. আসাদুল্লাহ—আব্দুল মালেক ও আয়েশা বেগমের ছেলে, শ্রীবরদী, শেরপুর (নিহত: ১৯ জুলাই ২০২৪)
৩. পারভেজ বেপারী—সবুজ বেপারী ও শামসুন্নাহারের ছেলে, মতলব, চাঁদপুর (নিহত: ১৯ জুলাই ২০২৪)
4. রফিকুল ইসলাম—মৃত আব্দুল জব্বার সিকদারের ছেলে, নাজিরপুর, পিরোজপুর (নিহত: ১৯ জুলাই ২০২৪)
৫. সোহেল রানা—মো. লাল মিয়া ও রাশেদা বেগমের ছেলে, লৌহজং, মুন্সীগঞ্জ (নিহত: জুলাই ২০২৪)
৬. রফিকুল ইসলাম—মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে, ফেনী সদর, ফেনী (নিহত: ১৯ জুলাই ২০২৪)
৭. ফয়সাল সরকার—শফিকুল ইসলামের ছেলে, দেবিদ্বার, কুমিল্লা (নিহত: ২২ জুলাই ২০২৪)
৮. কাবিল হোসেন (৫৮)—মৃত বুলু মিয়া ও শামেনা বেগমের ছেলে, মুগদা, ঢাকা (নিহত: ২ আগস্ট ২০২৪)

সিআইডি জানায়, রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে এ পর্যন্ত মোট ১১৪ জন অজ্ঞাত মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি পরিবারের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে আটজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট একটি মরদেহের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কবর শনাক্তের পর আটটি পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ ১৮ মাস পর স্বজনদের কবর শনাক্ত করতে পেরে পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। রায়েরবাজার কবরস্থানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সিআইডি জানায়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং আদালতের নির্দেশে পরিচালিত এই কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও মিনেসোটা প্রোটোকল অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সহায়তায় আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. লুইস ফনডেরিডারের নেতৃত্বে মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এর আগে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবল-বিঞ্জ সিআইডির ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিকেল টিমকে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেন।

সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, সম্ভাব্য সব নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং মর্যাদার সঙ্গে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।